‘আগে কাজ, পরে ভোট’—বালি বিধানসভায় তৃণমূল প্রার্থীর অভিনব স্টাইল! রানা বনাম কৈলাস দ্বন্দ্বে সরগরম হাওড়া!

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই বঙ্গ রাজনীতিতে যখন দেওয়াল লিখন আর মিছিলের হিড়িক, তখন সম্পূর্ণ উল্টো পথে হেঁটে নজর কাড়লেন বালি বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কৈলাস মিশ্র। টিকিট পাওয়ার পর ভোটারদের দুয়ারে হাত জোড় করে যাওয়ার বদলে তিনি সটান হাজির হলেন এলাকার জঞ্জালভর্তি নর্দমার সামনে। রীতিমতো ফোন করে বালি পুরসভার আধিকারিক ও সেচ দপ্তরের কর্মীদের ধমক দিয়ে তাঁর সাফ কথা— “আগে কাজ হবে, তারপর ভোট চাওয়া।”

বালির দীর্ঘদিনের প্রধান সমস্যা হলো বেহাল নিকাশি ব্যবস্থা এবং স্তূপীকৃত জঞ্জাল। এই সমস্যার জেরে এলাকার প্রাক্তন বিধায়ক রানা চট্টোপাধ্যায়কে বহুবার বাসিন্দাদের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে। এবার দল রানাকে সরিয়ে শিবপুরে পাঠিয়েছে এবং বালির দায়িত্ব দিয়েছে হাওড়া সদরের তৃণমূল যুব সভাপতি কৈলাস মিশ্রকে। কৈলাস একসময় সোনালি গুহর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতা ৬২ নম্বর ওয়ার্ডের সফল কাউন্সিলরও ছিলেন।

মঙ্গলবার লিলুয়া এলাকায় গিয়ে নিকাশির কঙ্কালসার চেহারা দেখে মেজাজ হারান কৈলাস। ফোনে আধিকারিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ আছে, বালির মানুষ যেন দুর্ভোগে না থাকে। অবিলম্বে জঞ্জাল সরাতে হবে।” প্রার্থীর এই কড়া বার্তার পরই তড়িঘড়ি কাজে নামে পুরসভা। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রার্থীর এই ভূমিকায় খুশি। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রাক্তন বিধায়কের প্রতি মানুষের যে ক্ষোভ ছিল, তা ধুয়ে মুছে ফেলতেই প্রচারে নামার আগে ‘অ্যাকশন মোডে’ অবতীর্ণ হয়েছেন নতুন এই প্রার্থী।