ভোটের মুখে রেকর্ড ব্রেক সাফল্য! একদিনে ২ লক্ষ অভিযোগের নিষ্পত্তি, সিইও দপ্তরে এখন উৎসবের মেজাজ!

২০২৬-এর হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই নজিরবিহীন তৎপরতা দেখা গেল নির্বাচন কমিশনের অন্দরে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত SIR (Special Information Registry) বা ভোটার সংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তির কাজে কার্যত ‘রেকর্ড’ তৈরি করল কমিশন। জানা গিয়েছে, গত ১৭ মার্চ মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ২ লক্ষ অভিযোগের নিষ্পত্তি করে ইতিহাস গড়েছেন ৭১০ জন বিচারক। তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এখনও পর্যন্ত মোট ২২ লক্ষেরও বেশি অভিযোগের পাহাড় সরানো সম্ভব হয়েছে।
এপ্রিলের মধ্যেই কি সব সমস্যার সমাধান?
নির্বাচন দপ্তরের আধিকারিকদের মতে, বর্তমানে যে ঝোড়ো গতিতে কাজ চলছে, তাতে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই অ্যাডজুডিকেশন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। অর্থাৎ, প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর্ব চলাকালীনই ভোটার তালিকায় থাকা যাবতীয় ত্রুটি বা অভিযোগ মিটে যাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ১ থেকে ১.৫ লক্ষ ভোটারের নাম নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। কমিশন সূত্রে খবর, আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন লিস্টে থাকা ২০ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য নিয়ে এখন হাইকোর্টের সঙ্গে আলোচনা চলছে। রাজ্যে যেহেতু দুই দফায় ভোট, তাই সাপ্লিমেন্টারি লিস্টও দুই দফায় প্রকাশ পেতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
বিচারপতিদের নিয়ে স্পেশাল ট্রাইবুনাল:
জটিলতা আরও দ্রুত মেটাতে ১০-১২ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে নিয়ে একটি বিশেষ ট্রাইবুনাল গড়ার পরিকল্পনা করছে কমিশন। ইতিমধ্যই বেশ কয়েকজন বিচারপতির মতামত চাওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে আইনি জটিলতা অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রশাসনিক স্তরে বড় রদবদল:
একদিকে যখন অভিযোগ নিষ্পত্তিতে গতি এসেছে, অন্যদিকে তখন প্রশাসনিক রাশ শক্ত করছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। নিরপেক্ষ ভোট করানোর লক্ষ্যে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মীনাকে তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ডিজি ও এডিজি স্তরের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল ঘটানো হয়েছে। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভোট প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপসারিত কর্তারা নির্বাচনের কোনও কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না।