তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা আসতেই রণক্ষেত্র ক্যানিং পূর্ব! শওকত মোল্লার অনুগামীদের টায়ার জ্বালিয়ে তুলকালাম বিক্ষোভ!

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই তপ্ত হয়ে উঠল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং পূর্ব। প্রার্থী তালিকায় পছন্দের নেতার নাম না থাকায় দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিদ্রোহে নামলেন তৃণমূলের একাংশ। মঙ্গলবার রাতে ক্যানিং পূর্বের রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে, স্লোগান দিয়ে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখান শওকত মোল্লার অনুগামীরা। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে জনজীবন স্তব্ধ হয়ে যায়।
বিক্ষোভের মূলে ‘বহিরাগত’ তত্ত্ব: তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে মহম্মদ বাহারুল ইসলামের নাম ঘোষণা হতেই ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সংগঠন সামলানো এবং মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা শওকত মোল্লাকেই প্রার্থী হিসেবে চাই। তাঁদের সাফ কথা, “বহিরাগত প্রার্থী কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।” এই দাবিতে কয়েকশো কর্মী-সমর্থক রাস্তায় নেমে দীর্ঘক্ষণ পথ অবরোধ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করতে হয়। শওকত মোল্লা নিজে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অনুগামীদের শান্ত করার চেষ্টা করলেও, তাঁর অনুগামীরা নিজেদের দাবিতে অনড় থাকেন।
বিপরীত ছবি ক্যানিং পশ্চিম ও বারুইপুর পূর্বে: ক্যানিং পূর্বে যখন আগুনের শিখা, তখন ক্যানিং পশ্চিম এবং বারুইপুর পূর্ব কেন্দ্রে ধরা পড়ল সম্পূর্ণ ভিন্ন মেজাজ। ক্যানিং পশ্চিমে আবারও পরেশরাম দাসের নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত হতেই খুশির জোয়ার বয়ে যায় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে। সবুজ আবির উধিয়ে, একে অপরকে মিষ্টি মুখ করিয়ে উৎসবে মাতেন তারা। অন্যদিকে, বারুইপুর পূর্বের প্রার্থী বিভাস সর্দার নাম ঘোষণা হতেই কোমর বেঁধে মাঠে নেমে পড়েছেন। নিজেই দেওয়াল লিখন করে নির্বাচনী প্রচারের সূচনা করেন এবং ব্যাপক জনসংযোগ শুরু করেন।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যানিং পূর্বের এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও ‘বহিরাগত’ বিতর্ক তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। নির্বাচনের মুখে এই ক্ষোভ প্রশমিত না হলে ভোটের বাক্সে তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।