“২৫০-র বেশি আসন নিয়ে ফিরছি”, দেওয়াল লিখে জয়ের গ্যারান্টি দিলেন আত্মবিশ্বাসী বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে অভিজ্ঞতার ওপরই বাজি ধরল তৃণমূল কংগ্রেস। বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রে আবারও প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে রাজ্য বিধানসভার বিদায়ী অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। টিকিট পাওয়ার পর এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে বুধবার সকাল থেকেই পুরোদমে প্রচারের ময়দানে নেমে পড়লেন হেভিওয়েট এই নেতা। বারুইপুরের ঐতিহ্যবাহী বিশালাক্ষী মন্দিরে পুজো দিয়ে নিজের নির্বাচনী লড়াইয়ের সূচনা করেন তিনি।

মন্দিরে পুজো ও দেওয়াল লিখন
এদিন সকালে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের বিশাল মিছিল নিয়ে মন্দিরে পৌঁছান বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। পুজোর আচার সেরে সোজা চলে যান এলাকায় দেওয়াল লিখনের কর্মসূচিতে। নিজের হাতে তুলি ধরে দলীয় প্রতীক ও স্লোগান লিখে প্রচারের সুর বেঁধে দেন তিনি। দীর্ঘদিনের বিধায়ক তথা স্পিকারকে হাতের নাগালে পেয়ে স্থানীয় কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রতিপক্ষের তুলনায় অনেক দ্রুত প্রচার শুরু করে বারুইপুর পশ্চিমে মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে এগিয়ে থাকতে চাইছে ঘাসফুল শিবির।

লক্ষ্য ২৫০ পার: আত্মবিশ্বাসী স্পিকার
প্রচার চলাকালীন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত প্রত্যয়ী সুরে জানান, রাজ্যে উন্নয়নের জোয়ার বইছে এবং মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজের নিরিখেই ভোট দেবেন। তিনি দাবি করেন, “এবার তৃণমূল কংগ্রেস ২৫০-এরও বেশি আসন নিয়ে ফের ক্ষমতায় ফিরবে।” তাঁর মতে, বারুইপুর পশ্চিমের মানুষের সঙ্গে তাঁর আত্মিক যোগাযোগই এবারের নির্বাচনে তাঁর প্রধান হাতিয়ার।

তপ্ত বারুইপুরের ভোট-বাজার
বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণার পর থেকেই বারুইপুর পশ্চিমে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। বিরোধীরা এখনও তাদের রণকৌশল সাজাতে ব্যস্ত থাকলেও, তৃণমূল প্রার্থী কিন্তু ঘরোয়া বৈঠক থেকে শুরু করে জনসংযোগ—সবই শুরু করে দিয়েছেন। দীর্ঘ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় কি পারবেন বারুইপুরের গড় অক্ষত রাখতে? উত্তর দেবে আগামী নির্বাচন, তবে প্রচারের প্রথম দিনেই তাঁর দাপুটে উপস্থিতি বিরোধীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।