“টাকার কাছে হেরে গেলাম”, রাজগঞ্জে স্বপ্না বর্মণকে প্রার্থী করায় ক্ষোভে ফেটে পড়লেন খগেশ্বর; তুফানগঞ্জেও কান্নার সুর

একদিকে ব্রিগেডে তারুণ্যের জয়গান, অন্যদিকে পুরনো সৈনিকদের চোখের জল। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ২৯১টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করতেই অভূতপূর্ব বিদ্রোহের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নতুন তৃণমূল’ গড়বার লক্ষ্যে এবার বাদ পড়েছেন ৪ মন্ত্রী-সহ ৭৪ জন বিদায়ী বিধায়ক। তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে ১৪১টি নতুন মুখ। আর এই ‘বাদ’ পড়ার তালিকায় নাম থাকতেই রাজগঞ্জ থেকে চুঁচুড়া—রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়েছে বিক্ষোভের আগুন।
“টাকার কাছে হেরে গেলাম”: বিস্ফোরক খগেশ্বর রায়
সবচেয়ে বড় বিদ্রোহ দেখা দিয়েছে রাজগঞ্জে। চারবারের জয়ী বিধায়ক খগেশ্বর রায় টিকিট না পেয়ে বুধবারই চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “আমি চিন্তাও করতে পারিনি দল আমার প্রতি এমন অবিচার করবে। আজ আমি টাকার কাছে হেরে গেলাম। নিশ্চয়ই কোনও লিডার টাকা দিয়েছে, তাই দল তাঁকে বেছে নিয়েছে।” তাঁর জায়গায় এবার রাজগঞ্জে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মণ। খগেশ্বরের সাফ হুঁশিয়ারি, রাজগঞ্জে তৃণমূল প্রার্থীর হার নিশ্চিত। এদিন খগেশ্বরের অনুগামীরা তাঁর বাড়ির সামনে বিক্ষোভও দেখান।
রাজনৈতিক সন্ন্যাসের পথে রবীন্দ্রনাথ ও অসিত
উষ্মা প্রকাশ করেছেন উত্তরবঙ্গের দাপুটে নেতা ও তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষও। ২০১১ ও ২০১৬-র নাটাবাড়ির জয়ী এই নেতাকে এবার দল টিকিট দেয়নি। রবীন্দ্রনাথের আক্ষেপ, “ভেবেছিলাম দল টিকিট দেবে। তুফানগঞ্জ থেকে দাঁড়াতে বলা হয়েছিল, কিন্তু আমি নাটাবাড়ি চেয়েছিলাম।” অন্যদিকে, চুঁচুড়ায় তিনবারের বিধায়ক অসিত মজুমদারও টিকিট না পেয়ে কার্যত ভেঙে পড়েছেন। তিনিও প্রকাশ্যেই রাজনৈতিক সন্ন্যাস নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
মমতার সান্ত্বনা বনাম কর্মীদের অসন্তোষ
প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, যারা টিকিট পাননি তাঁদের হতাশ হওয়ার কারণ নেই। তাঁদের দলের সাংগঠনিক কাজে বা উচ্চতর পদে জায়গা দেওয়া হবে। কিন্তু নেত্রীর সেই আশ্বাসেও বরফ গলেনি। বাদ পড়া বিধায়কদের অনুগামীরা টায়র জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ থেকে শুরু করে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন মুখ এনে ভোট বৈতরণী পার হতে চাইলেও, পুরনো হেভিওয়েটদের এই বিদ্রোহ ভোটের বাক্সে তৃণমূলের জন্য কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারে।