টলিউডে ফের নক্ষত্রপতন! ‘বামাক্ষ্যাপা’ থেকে ‘কিরণমালা’, যাঁর কলমে প্রাণ পেত গল্প, সেই ঋতম ঘোষাল আর নেই

বিনোদন জগতে শোকের কালো মেঘ। বর্ষীয়ান অভিনেতা তমাল রায়চৌধুরীর প্রয়াণের রেশ কাটতে না কাটতেই টলিউড হারাল আরও এক নক্ষত্রকে। প্রয়াত হলেন প্রথিতযশা কাহিনিকার ও চিত্রনাট্যকার ঋতম ঘোষাল। বুধবার সকালে তাঁর প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্টুডিও পাড়ায়। ছোট পর্দার একাধিক কালজয়ী মেগা ধারাবাহিকের নেপথ্য কারিগর ছিলেন তিনি।

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, সম্প্রতি জগন্নাথ ধাম পুরী ভ্রমণে গিয়েছিলেন ঋতমবাবু। সেখান থেকে ফেরার পথেই তিনি শারীরিক অসুস্থতা বোধ করেন। ট্রেনের মধ্যেই তাঁর একবার হার্ট অ্যাটাক হয় বলে খবর। কলকাতায় পৌঁছানোর পর পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তড়িঘড়ি তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিলেন, কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। পরে তাঁকে অন্য একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হলেও চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই জনপ্রিয় চিত্রনাট্যকার।

বাংলা টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে ঋতম ঘোষাল মানেই ছিল পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক গল্পের এক জাদুকরী বুনন। তাঁর লেখনীর গুণেই ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’ ধারাবাহিকটি আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। শুধু তাই নয়, ‘মহাপীঠ তারাপীঠ’, ‘কিরণমালা’, ‘দেবী চৌধুরাণী’ কিংবা ‘কৃষ্ণ’-র মতো মেগা হিট ধারাবাহিকগুলোর চিত্রনাট্যও ছিল তাঁরই কলমের সৃষ্টি। তাঁর প্রয়াণে বাংলা টেলিভিশন জগতের অপূরণীয় ক্ষতি হলো বলে মনে করছেন কলাকুশলীরা।

আজ, বুধবার বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োতে তাঁর নশ্বর দেহ নিয়ে আসা হবে। সেখানে প্রিয় সহকর্মীকে শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন টলিপাড়ার অভিনেতা ও টেকনিশিয়ানরা। ঋতম ঘোষালের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও তারকারা। চৈতি ঘোষাল, রূপাঞ্জনা মিত্র, ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়, সোনালী চৌধুরী ও অনিন্দিতা রায়চৌধুরীর মতো জনপ্রিয় শিল্পীরা সমাজমাধ্যমে শোকপ্রকাশ করেছেন। প্রত্যেকের স্মৃতিচারণায় উঠে আসছে এক অমায়িক মানুষ ও দক্ষ লেখকের ছবি। পরপর দুই গুণী মানুষকে হারিয়ে বাংলা টেলি-দুনিয়া এখন কার্যত অভিভাবকহীন।