“আমি কি চাকর নাকি?”— চুঁচুড়ায় টিকিট খোয়ানোয় বিস্ফোরক তিনবারের বিধায়ক, আইনজীবী পেশায় ফেরার হুঁশিয়ারি

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়েছে ‘বিদ্রোহ’ আর ‘বিলাপ’। মঙ্গলবার কালীঘাট থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করার পর সবথেকে বড় চমক দেখা গিয়েছে হুগলির চুঁচুড়ায়। তিনবারের দাপুটে বিধায়ক অসিত মজুমদারকে সরিয়ে সেখানে প্রার্থী করা হয়েছে দলের তরুণ তুর্কী ও আইটি সেলের প্রধান দেবাংশু ভট্টাচার্যকে। এই খবর পাওয়ার পরেই মেজাজ হারিয়েছেন অসিত বাবু। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “দল আর করব না, পার্টি থেকে বিশ্রাম নিলাম। আমি কি চাকর নাকি যে বললেই কাজ করতে হবে?” চুঁচুড়ার এই পোড়খাওয়া রাজনীতিক জানিয়েছেন, এবার তিনি নিজের পুরনো পেশা অর্থাৎ ওকালতিতে ফিরে যাবেন।
অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গেও ক্ষোভের আগুন দাউদাউ করে জ্বলছে। রাজগঞ্জের চারবারের বিধায়ক খগেশ্বর রায় টিকিট না পেয়ে প্রকাশ্যেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁর অনুগামীদের মধ্যেও ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। খগেশ্বরবাবুর দাবি, দীর্ঘদিন দলের হয়ে লড়াই করার পরও কেন তাঁকে ব্রাত্য করা হলো, তার কোনো সদুত্তর মেলেনি।
তবে তালিকার সবথেকে ‘ভদ্র’ এবং ‘আবেগঘন’ প্রতিক্রিয়া এসেছে বলাগড়ের বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারীর কাছ থেকে। টিকিট না পেলেও তিনি দলের বিরুদ্ধে কোনো বিষোদগার করেননি। বরং সোশ্যাল মিডিয়ায় গত পাঁচ বছরের কাজের খতিয়ান তুলে ধরে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেছেন। তবে তাঁর জায়গায় কাকে প্রার্থী করা হলো, তা নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে।
তৃণমূলের ছাঁটাই তালিকা একনজরে:
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এবারের তালিকায় বড় রদবদল ঘটেছে। প্রায় ৭৪ জন বিদায়ী বিধায়ক এবার টিকিট পাননি। যাঁদের মধ্যে রয়েছেন একাধিক হেভিওয়েট নাম:
মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের বিদায়: প্রতিমন্ত্রী জ্যোৎস্না মান্ডি এবং তাজমূল হোসেন বাদ পড়েছেন।
পরিচিত মুখ: বাদ গিয়েছেন তপন দাশগুপ্ত, নির্মল ঘোষ, পরেশ পাল, বিবেক গুপ্তা এবং স্বর্ণ কমল সাহা।
তারকা বিয়োগ: মনোজ তিওয়ারি, কাঞ্চন মল্লিক এবং দীর্ঘদিনের বিধায়ক চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তীকেও এবার আর প্রার্থী করা হয়নি।
নতুন সমীকরণ: নির্মল ঘোষ নিজে টিকিট না পেলেও তাঁর ছেলেকে প্রার্থী করেছে দল। অন্যদিকে, রত্না দে নাগ এবং সুপ্তি পাণ্ডেও বাদ পড়েছেন। প্রত্যাশিতভাবেই নাম নেই জেলবন্দি পার্থ চট্টোপাধ্যায় বা মানিক ভট্টাচার্যের।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬-এর লড়াইয়ে ‘ক্লিন ইমেজ’ এবং ‘নতুন রক্ত’ আনতে গিয়েই এত বড় ঝুঁকির পথে হেঁটেছেন মমতা-অভিষেক জুটি। তবে অসিত মজুমদারের মতো নেতাদের এই প্রকাশ্য বিদ্রোহ ভোটের ময়দানে ঘাসফুল শিবিরের জন্য কাঁটা হয়ে দাঁড়ায় কি না, সেটাই এখন দেখার।