“১০ বছর পিছিয়ে গেছে ইরান!” আরও বড় ধ্বংসলীলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, থামছে না মার্কিন মিসাইল হানা

ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া মার্কিন সামরিক অভিযান এখনই থামছে না—হোয়াইট হাউস থেকে সরাসরি এই কড়া বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো ক্ষণস্থায়ী বা দায়সারা আঘাত নয়, বরং ইরানকে এমন ‘স্থায়ী ক্ষত’ দিতে হবে যাতে ভবিষ্যতে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এই একই সমস্যার মুখোমুখি হতে না হয়। ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন ও মিত্রশক্তির হামলায় ইরানের সামরিক মেরুদণ্ড ইতিমধ্যেই ভেঙে পড়েছে এবং সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দেশটির অন্তত ১০ বছর সময় লাগবে। তবে তিনি এতেই সন্তুষ্ট নন; ইরানকে চিরতরে পঙ্গু করে দেওয়াই এখন ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য।

যুদ্ধের অগ্রগতি নিয়ে দম্ভোক্তি করে ট্রাম্প বলেন, “অপারেশন অত্যন্ত সফলভাবে এগোচ্ছে। আমরা এমন ফলাফল পেয়েছি যা অনেকে কল্পনাও করতে পারেননি।” তাঁর সবথেকে বিস্ফোরক দাবি হলো, আমেরিকা যদি সঠিক সময়ে আক্রমণ না করত, তবে ইরান মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হতো। ট্রাম্পের কথায়, “তারা পরমাণু বোমা বানানোর দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিল। তখন আর আলোচনার কোনো জায়গা থাকত না।” তাই ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না বলে ফের শপথ নিয়েছেন তিনি।

তবে এই যুদ্ধ কতদিন চলবে, তা নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা বজায় রেখেছেন প্রেসিডেন্ট। একদিকে তিনি একে “কয়েক সপ্তাহের ছোট অভিযান” বলছেন, অন্যদিকে বলছেন যে আমেরিকা এখনই পাততাড়ি গুটিয়ে ফিরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত নয়। কূটনৈতিক আলোচনার পথে সবথেকে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব। সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় ইরানের একাধিক শীর্ষ নেতা নিহত হওয়ায় ট্রাম্প কটাক্ষ করে বলেন, “আমরা এখন জানি না কার সঙ্গে কথা বলব।” এদিকে হরমুজ প্রণালী ইস্যুতে ন্যাটোর (NATO) নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ফের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের সাফ কথা, বিশ্বের তেলের বাজারের সুরক্ষা নিয়ে ন্যাটো বড় ভুল করছে এবং আমেরিকা এই একলা চলার নীতিতে বিন্দুমাত্র ভীত নয়।