“দিলীপ কেন এত পাবলিসিটি পাবে?” নিজের বিয়ে ও রাজনৈতিক কামব্যাক নিয়ে বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ!

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে বাংলার রাজনীতিতে ফের ‘দিলীপ-ঝড়’! ব্রিগেডের মেগা সমাবেশ থেকে শুরু করে খড়্গপুর সদর কেন্দ্রে প্রার্থী হওয়া— সব মিলিয়ে দিলীপ ঘোষ বুঝিয়ে দিলেন, তিনি ফুরিয়ে যাননি। একসময় তাঁর দলবদল, দিঘার মন্দিরে মমতার সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং আচমকা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে কম জলঘোলা হয়নি। অনেকেই ভেবেছিলেন দিলীপ বোধহয় এবার ‘জোড়াফুল’ শিবিরে নাম লেখাতে চলেছেন। কিন্তু সমস্ত জল্পনা নস্যাৎ করে দিয়ে নিজের পুরোনো দুর্গ খড়্গপুর থেকেই গেরুয়া ঝাণ্ডা হাতে লড়ছেন তিনি। নিউজ১৮ নেটওয়ার্কের এডিটর ইস্ট বিশ্ব মজুমদারকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজের বিয়ে এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে একগুচ্ছ সোজাসাপ্টা উত্তর দিলেন দিলীপ।
বিয়ের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর রসায়ন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দিলীপ বলেন, “মোদীজির সঙ্গে আমার সম্পর্ক বহুদিনের। উনি প্রকাশ্যে আমার বিয়ের কথা বলে মিষ্টি খেতে চেয়েছেন, এটা তাঁর ভালোবাসা। উনি গম্ভীর থাকলেও ওঁর এই হাসি-ঠাট্টা সবাই উপভোগ করেছেন, আমিও মজা পেয়েছি।” তবে নিজের দলের অন্দরেই যে তাঁর বিয়ে নিয়ে বিড়ম্বনা ছিল, তা লুকোননি দিলীপ। তাঁর কথায়, “বিরোধিতা শুধু বাইরে থেকে নয়, পার্টির ভিতর থেকেও হয়েছে। অনেকেই ভেবেছে দিলীপ কেন এত পাবলিসিটি পাবে! কিন্তু এখন মোদীজি নিজে যখন মিষ্টি খেতে চেয়েছেন, তখন কার দম আছে কিছু বলার?”
বিয়ে কি দিলীপ ঘোষের আক্রমণাত্মক মেজাজ বদলে দিয়েছে? রিঙ্কু বৌদি কি তাঁকে শাসন করেন? এই প্রশ্নের উত্তরে মুচকি হেসে দিলীপ জানান, সময়ের সঙ্গে তিনি অনেক বেশি বাস্তববাদী হয়েছেন। তিনি বলেন, “রাজনীতি করতে গিয়ে বহুবার মার খেয়েছি, গাড়ি ভেঙেছে, একা লড়েছি। কিন্তু এখন বুঝি বেকার ঝগড়া করে লাভ নেই। আজ যে এই পার্টিতে আছে, কাল সে কোন ঝাণ্ডা ধরবে তার গ্যারান্টি নেই।” রাজনৈতিক মহলের মতে, দিলীপের এই ‘সংযত’ ভঙ্গি আসলে ভোটের আগে এক বড় কৌশলের অংশ। পুরনো মুখদের সামনে এনে বিজেপি যখন হারানো জমি পুনরুদ্ধারে মরিয়া, তখন দিলীপ ঘোষই হতে পারেন তাদের তুরুপের তাস।