তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পদধ্বনি? ইরানের ভূগর্ভস্থ মিসাইল ঘাঁটিতে আমেরিকার ‘বাঙ্কার বাস্টার’ হানা, ধ্বংস ল্যাঞ্চার প্যাড!

আমেরিকা বনাম ইরান সংঘাত এবার এক ভয়ঙ্কর মোড় নিল। যুদ্ধের ১৪ দিন পার হওয়ার পর বুধবার ভোরে ইরানের খাস তালুক হরমুজ প্রণালীর কাছে অবস্থিত একাধিক শক্তিশালী মিসাইল ঘাঁটিতে বিধ্বংসী বিমান হামলা চালাল মার্কিন বায়ুসেনা। পেন্টাগন সূত্রে খবর, এই অভিযানে ব্যবহার করা হয়েছে ৫০০০ পাউন্ড ওজনের ঘাতক ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা, যা মাটির গভীরে থাকা কংক্রিটের দুর্ভেদ্য ঘাটিকেও গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের অ্যান্টি-শিপ মিসাইলের হুমকি রুখতেই এই আগাম হামলা চালানো হয়েছে।

বুধবার ভারতীয় সময় ভোরেই এই অভিযানের কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় জানায় মার্কিন সামরিক কমান্ড। হরমুজ প্রণালীর উপকূলীয় অঞ্চলে ইরানের যে সুদৃঢ় ও ভূগর্ভস্থ মিসাইল লঞ্চারগুলো ছিল, সেগুলোকে লক্ষ্য করেই এই ‘ডিপ পেনিট্রেটর’ মিউনিশন ব্যবহার করা হয়েছে। হামলার তীব্রতা এতটাই ছিল যে ইরানের একাধিক সামরিক পরিকাঠামো মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যায়। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরান এই এলাকা থেকে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার ছক কষছিল, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় বিপদ হতে পারত।

তবে এই সামরিক সাফল্যের মাঝেই জোটসঙ্গীদের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, আমেরিকা ও ইজরায়েলের এই যৌথ অভিযানে সরাসরি অংশ নিতে অস্বীকার করেছে ন্যাটো (NATO)-র অধিকাংশ সদস্য রাষ্ট্র। মিত্র দেশগুলির এই নিষ্ক্রিয়তাকে “মারাত্মক ও অত্যন্ত বোকামি পূর্ণ ভুল” বলে অভিহিত করেছেন ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, সবাই আড়ালে আমেরিকার পাশে থাকার কথা বললেও সরাসরি সাহায্য করতে চাইছে না, যা অত্যন্ত স্তম্ভিত হওয়ার মতো ঘটনা। ন্যাটোর এই দ্বিমুখী আচরণ আমেরিকা মনে রাখবে বলেও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং ইরান যে কোনো সময় পালটা আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।