“BJP-হারলেই কি কোপ পড়ছে মহিলা ভোটে?”-সীমান্তবর্তী ৪ কেন্দ্রের বিস্ফোরক পরিসংখ্যন!

২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের রণদামামা বাজতেই উত্তর ২৪ পরগনায় নতুন এক রাজনৈতিক যুদ্ধের সূত্রপাত হলো। এবার বিতর্কের কেন্দ্রে ‘বিচারাধীন ভোটার তালিকা’ (Under Adjudication Voter List)। তৃণমূল কংগ্রেসের সরাসরি অভিযোগ, যে সব কেন্দ্রে গত নির্বাচনে বিজেপি পরাজিত হয়েছিল, সেই সব জায়গাতেই বেছে বেছে বিপুল সংখ্যক মহিলা ভোটারের নাম ‘বিচারাধীন’ তালিকায় ফেলে তাঁদের ভোটাধিকার অনিশ্চিত করে দেওয়া হচ্ছে।

টার্গেট কি মহিলা ভোটব্যাঙ্ক? তৃণমূল শিবিরের দাবি, বাংলার ‘লক্ষ্মী’ বা মহিলা ভোটাররাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান শক্তি। আর সেই শক্তিতে আঘাত হানতেই এক গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। শাসক দলের পক্ষ থেকে কয়েকটি সীমান্তবর্তী ও স্পর্শকাতর কেন্দ্রের চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে:

  • স্বরূপনগর: মোট ১৪,৩৭৭ জন বিচারাধীন ভোটারের মধ্যে ৮,৫৩৬ জনই মহিলা

  • বাদুড়িয়া: ১৯,০৪১ জনের মধ্যে ৯,৮০৮ জন মহিলা

  • মিনাখাঁ: ৩২,৬১৪ জনের মধ্যে ১৭,২৫৬ জন মহিলা

  • অশোকনগর: ১৮,২৮৪ জনের মধ্যে ৯,২৫১ জন মহিলা

  • সন্দেশখালি: এখানেও প্রায় ১২,৭৪৭ জন মহিলার নাম ঝুলে রয়েছে বিচারপ্রক্রিয়ায়।

তৃণমূলের প্রশ্ন, এই অনুপাত কি কাকতালীয়? নাকি রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য পরিকল্পিতভাবে প্রমীলা বাহিনীর নাম ছেঁটে ফেলার চেষ্টা?

তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারদের ওপরও কোপ: বিতর্ক শুধু মহিলা ভোটারদের নিয়েই নয়, জেলায় ২৬ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারকেও বিচারাধীন তালিকায় রাখা হয়েছে। যার মধ্যে বনগাঁ উত্তরেই রয়েছেন সর্বাধিক ৪ জন।

কমিশনের বিরুদ্ধে রণংদেহি তৃণমূল: মাইক্রো অবজার্ভার ও রোল অবজার্ভার নিয়োগ নিয়ে শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশনের (ECI) নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছিল জোড়াফুল শিবির। এবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিচারপ্রক্রিয়া চললেও, সেই তালিকায় মহিলাদের আধিক্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ‘ভোটার ছাঁটাই’ ইস্যুকে হাতিয়ার করে বিজেপিকে ‘নারী-বিরোধী’ হিসেবে দাগিয়ে দিতে চাইছে তৃণমূল।

অন্যদিকে, কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, নথিপত্রের অসঙ্গতি ও সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন মেনেই এই তালিকা তৈরি হয়েছে। তবে ভোটের আগে উত্তর ২৪ পরগনার এই ‘ডিজিটাল লড়াই’ আদতে ভোটের বাক্সে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।