“মমতার ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’!”-৭টি আসনের ৬টিতেই বিদায় বিধায়কদের, এবার সব মুখ বদল?

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট সাংগঠনিক জেলায় এক আমূল পরিবর্তনের পথে হাঁটল তৃণমূল কংগ্রেস। ড্যামেজ কন্ট্রোল হোক বা নতুন রণকৌশল— এই জেলার ৭টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ৬টিতেই বিদায়ী বিধায়কদের টিকিট না দিয়ে সম্পূর্ণ নতুন মুখ নিয়ে এল ঘাসফুল শিবির। একমাত্র মিনাখাঁ কেন্দ্রে পুরনো মুখ ঊষারানি মণ্ডলের ওপর আস্থা রাখা হয়েছে।

কারা পেলেন নতুন টিকিট? তৃণমূলের নতুন এই ব্রিগেডে জায়গা করে নিয়েছেন:

  • বাদুড়িয়া: বুরহানুল মোকাদ্দিম

  • বসিরহাট দক্ষিণ: সুরজিৎ মিত্র (বাদল)

  • বসিরহাট উত্তর: তৌসিফ রহমান

  • হিঙ্গলগঞ্জ: আনন্দ সরকার

  • সন্দেশখালি: ঝর্না সর্দার

  • হাড়োয়া: আব্দুল মাতিন

কেন এই গণ-বদল? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তবর্তী এই জেলাটি বিগত কয়েক বছরে নানা বিতর্ক ও স্থানীয় স্তরে বিধায়কদের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া ক্ষোভের কারণে শিরোনামে এসেছে। বিশেষ করে সন্দেশখালি বা হাড়োয়ার মতো সংবেদনশীল এলাকায় জনমানসে দলের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে মরিয়া ছিল শীর্ষ নেতৃত্ব। তাই কোনও ঝুঁকি না নিয়ে ‘ক্লিন ইমেজ’ বা স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নতুন মুখদের সামনে আনা হয়েছে। তৃণমূলের বিশ্বাস, এতে মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ প্রশমিত হবে এবং ভোটবাক্সে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ঝুঁকি নাকি কৌশল? যদিও এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত নয়। বসিরহাটের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় অভিজ্ঞ বিধায়কদের সরিয়ে একেবারে নতুনদের নিয়ে আসা কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে দলের অন্দরেই প্রশ্ন রয়েছে। নতুন প্রার্থীদের পক্ষে অল্প সময়ে বিশাল সংগঠনকে এককাট্টা করা এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মেটানো বড় চ্যালেঞ্জ। তবে তৃণমূল নেতৃত্ব মনে করছে, ‘পুরনো চাল ভাতে বাড়ে’ মন্ত্রের চেয়ে ‘নতুন মুখের সতেজতা’ই এবার মানুষের আস্থা অর্জনে বেশি কার্যকর হবে।

বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন এই জেলাটি বরাবরই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সেখানে তৃণমূলের এই ‘নতুন মুখ’ তত্ত্বে বিজেপি বা অন্য বিরোধীরা কতটা জমি পায়, নাকি শাসকদল একতরফা বাজিমাত করে, তা নিয়ে এখন টানটান উত্তেজনা রাজনৈতিক মহলে।