‘ধর্মের ব্যবসায়ী কাসেম সিদ্দিকি’!-TMC প্রার্থী কে নিয়ে চরম অস্বস্তি, শুরু তুমুল বিক্ষোভ

প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙায় আড়াআড়ি বিভক্ত তৃণমূল কংগ্রেস। দীর্ঘদিনের বিধায়ক রফিকুর রহমানকে সরিয়ে ফুরফুরা শরিফের কাসেম সিদ্দিকিকে প্রার্থী করতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় নেতা-কর্মীদের একাংশ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মঙ্গলবার বিকেলে প্রার্থীর নাম ঘোষণার পরেই রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তৃণমূল কর্মীরা।

কেন এই বিদ্রোহ? ২০১১ সাল থেকে আমডাঙার বিধায়ক রফিকুর রহমান এলাকায় যথেষ্ট জনপ্রিয়। কর্মীদের দাবি, আপদে-বিপদে সবসময় তাঁকে পাশে পাওয়া যায়। তাঁর জায়গায় কাসেম সিদ্দিকিকে প্রার্থী করায় ক্ষোভের মূল কারণ দুটি:

  • ‘বহিরাগত’ তকমা: স্থানীয় নেতা অমল কুমার বিষ্ণুর মতে, “রফিকুর বাবু সফল বিধায়ক। কিন্তু এমন একজনকে প্রার্থী করা হয়েছে যাঁকে পেতে আমাদের ফুরফুরা শরিফে ছুটতে হবে। আমরা আমডাঙার কোনও ভূমিপুত্রকে চাই।”

  • পুরানো মন্তব্য: বিক্ষুব্ধ কর্মীদের অভিযোগ, কাসেম সিদ্দিকি কিছুদিন আগেও তৃণমূলের বিরুদ্ধে অসম্মানজনক মন্তব্য করেছিলেন। এখন তাঁকেই প্রার্থী হিসেবে মেনে নিতে পারছেন না নিচুতলার কর্মীরা। তাঁদের সাফ কথা, “আমাদের কোনও ধর্মের ব্যবসায়ীকে চাই না।”

স্মৃতিতে ২০২১-এর প্রার্থী বদল আমডাঙার এই পরিস্থিতি নতুন নয়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও মোর্তাজা হোসেনকে প্রার্থী করায় প্রবল বিক্ষোভ হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত দল প্রার্থী বদল করে রফিকুর রহমানকে টিকিট দিতে বাধ্য হয়। ফলও মিলেছিল হাতেনাতে— ২৫ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতেছিল তৃণমূল। এবারও সেই একই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে প্রার্থী বদলের জন্য শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে দরবার করছেন কর্মীরা।

গণ-ইস্তফার হুঁশিয়ারি শোনা যাচ্ছে, প্রার্থী বদল না করা হলে আমডাঙার একাধিক তৃণমূল পদাধিকারী নেতা গণ-ইস্তফা দিতে পারেন। যদিও এখনই দল ছাড়ার কথা ভাবছেন না তাঁরা, তবে ‘ভূমিপুত্র’ প্রার্থীর দাবিতে অনড় অমলরা।

সুযোগ খুঁজছে বিরোধীরা? তৃণমূলের এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের আবহে আমডাঙার রাজনৈতিক সমীকরণ জটিল হয়ে উঠেছে। শাসক দলের অন্দরের এই ফাটলকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি বা আইএসএফ (ISF) বাড়তি সুবিধা পায় কি না, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন। আমডাঙার এই ‘বিদ্রোহ’ কি শেষ পর্যন্ত শান্ত করতে পারবে কালীঘাট? উত্তর দেবে সময়।