“ন্যাড়া বেলতলায় বারবার যায় না!” নন্দীগ্রামে মমতাকে নিয়ে দিলীপের চরম কটাক্ষ

বুধবার সকাল থেকেই খড়গপুরের অলিতে-গলিতে চেনা মেজাজে দেখা গেল বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষকে। ভোট প্রচারকে কেবল ‘ফরম্যালিটি’ বলে উড়িয়ে দিয়ে তিনি সাফ জানালেন, সারাবছর মানুষের পাশে থাকাই তাঁর শক্তি। এদিন চা-চক্রে যোগ দিয়ে এবং একাধিক মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রচার শুরু করেন তিনি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা থেকে শুরু করে নন্দীগ্রাম ইস্যু— প্রতিটা প্রশ্নেই স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে আক্রমণ শানালেন দিলীপ।
মমতা ও নন্দীগ্রাম প্রসঙ্গ:
নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে তৃণমূলের প্রার্থী চয়ন নিয়ে দিলীপ ঘোষের তির্যক মন্তব্য, “তৃণমূলের কাছে নন্দীগ্রামে লড়াই করার মতো যোগ্য প্রার্থীই নেই। তাই আমাদের থেকে লোক ধার করে লড়তে হচ্ছে।” মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন এবার নন্দীগ্রামে দাঁড়ালেন না, সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ন্যাড়া বেলতলায় বারবার যায় না। আমরাই মুখ্যমন্ত্রীকে ধাওয়া করে ভবানীপুর পৌঁছে দিয়েছি।”
তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ও দুর্নীতি:
তৃণমূলের ৭৪ জন বিদায়ী বিধায়ককে বাদ দেওয়া নিয়ে দিলীপের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন চরম বিষম পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “তৃণমূলে দাগী নয় এমন লোক খুঁজে পাওয়া মুশকিল। চোর বাছতে গেলে এখন গাঁ উজাড় হয়ে যাবে। একসময় দিদি বলতেন ২৯৪টি আসনেই তিনি প্রার্থী, আজ সেই দিন চলে গিয়েছে। ওনার দল এখন দুর্নীতির প্রতীক হয়ে গিয়েছে।”
খড়গপুরে লক্ষ্য ১ লাখ:
নিজের কেন্দ্র খড়গপুর নিয়ে আত্মবিশ্বাসী দিলীপ ঘোষ। প্রতিপক্ষের স্কোর ১-১ হলেও নিজের স্কোর ২-০ বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর লক্ষ্য এবার খড়গপুরে জয়ের ব্যবধান ১ লাখে নিয়ে যাওয়া। প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে তিনি জানান, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই ঠিক করবে নরেন্দ্র মোদী বা অমিত শাহ কবে খড়গপুরে আসবেন। সব মিলিয়ে দিলীপের তপ্ত বাণীতে উত্তরের খড়গপুর এখন সরগরম।