কুত্সা আমায় বিচলিত করে না! সোনারপুর দক্ষিণে ফের টিকিট পেয়ে বিরোধীদের কড়া জবাব লাভলি মৈত্রের

যাবতীয় জল্পনা, গুঞ্জন আর কুত্সায় জল ঢেলে ফের একবার সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হলেন অভিনেত্রী তথা বিদায়ী বিধায়ক লাভলি মৈত্র। টিকিট পাওয়ার পরই নিজের উচ্ছ্বাস চেপে রাখতে পারেননি তিনি। TV9 বাংলাকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে লাভলি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, দলের এই ভরসা তাঁর দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। একইসঙ্গে টিকিট পাওয়া নিয়ে যে নেতিবাচক খবর ছড়িয়েছিল, তার পালটা দিয়ে বিরোধীদের ‘নিম্নরুচি’র মানুষ বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি।
দায়িত্ব বাড়ল, লক্ষ্য বিশাল জয়:
দ্বিতীয়বার একই কেন্দ্র থেকে টিকিট পেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন লাভলি। তাঁর কথায়, “আমি খুব উচ্ছ্বসিত এবং দলনেত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ। একই কেন্দ্র থেকে দ্বিতীয়বার সুযোগ পাওয়ায় দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেল। কারণ, মানুষের প্রত্যাশা এখন আরও বেশি থাকবে। আমার একমাত্র লক্ষ্য হল গতবারের চেয়েও বড় ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে আনা।”
অভিনয় ছেড়ে এখন পাখির চোখ নির্বাচন:
বর্তমানে জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘চিরসখা’-তে অভিনয় করছেন লাভলি। কিন্তু রাজনীতির ময়দানে নামলে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো যে সম্ভব নয়, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। অভিনেত্রী জানান, “নির্বাচনের এই ব্যস্ত সময়ে শুটিং চালানো সম্ভব নয়। তাই ‘চিরসখা’-র কাজ আপাতত বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এখন আমার পুরো সময় এবং শ্রম থাকবে নির্বাচনের কাজে। এমনিতে অভিনয় ও রাজনীতি দুইই আমার ভালোবাসার জায়গা, তাই অন্য সময়ে ব্যালেন্স করি। কিন্তু এখন শুধুই মানুষের কাছে পৌঁছানো লক্ষ্য।”
টিকিট না পাওয়া নিয়ে জল্পনার জবাব:
মাঝে রটে গিয়েছিল যে, মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং লাভলিকে জানিয়েছেন তাঁকে আর টিকিট দেওয়া হবে না। এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে গর্জে উঠে লাভলি বলেন, “দল কাকে প্রার্থী করবে সেটা একান্তই নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত। কিছু মানুষের কাজই হল কুত্সা আর অপপ্রচার করা। এগুলো অত্যন্ত নিম্নরুচির কাজ। বহু বছর অভিনয় করে বুঝেছি, কিছু মানুষ ট্রোল করবেই। যারা মিথ্যা গল্প সাজায়, তাদের কথায় কান না দেওয়াই ভালো।”
নিজের কাজের ওপর আত্মবিশ্বাস ঝরে পড়ল বিদায়ী বিধায়কের গলায়। তিনি বলেন, “সোনারপুর দক্ষিণে আমি কী কাজ করেছি, তা এখানকার মানুষ বলবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিনিধি হিসেবে সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। আমি বিচলিত নই, মানুষের ভালোবাসায় আবার জয়ী হব।”