১৭ দিনের যুদ্ধের পর বড় সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের! ইরান থেকে কি সরছে মার্কিন সেনা? ঘনীভূত রহস্য

পশ্চিম এশিয়ায় ইরানকে কেন্দ্র করে চলা রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি এক নাটকীয় মোড় নিল। গত ১৭ দিন ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মাঝেই এবার পিছু হটার ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সরে যাওয়ার কথা বললেও, ইরানের ওপর হামলা এখনই থামছে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, “খুব শীঘ্রই আমরা সেখান থেকে সরে যাব।” ট্রাম্পের এই দ্বিমুখী অবস্থানে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে যেমন উত্তেজনা কমে আসার আভাস মিলেছে, তেমনই যুদ্ধবিরতি নিয়ে ধোঁয়াশা আরও বেড়েছে।
ন্যাটোকে তোপ ও আমেরিকার একাধিপত্য:
হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ন্যাটোর নিষ্ক্রিয়তায় চরম ক্ষুব্ধ ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ন্যাটোকে ‘একমুখী’ বলে কটাক্ষ করে তিনি লেখেন, আমেরিকা প্রতি বছর বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও সংকটের সময় ন্যাটোর থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পায় না। একইসঙ্গে তাঁর দম্ভোক্তি, “ওয়াশিংটন একাই পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম, আমাদের কারও সাহায্যের প্রয়োজন নেই।”
ইজরায়েলি অভিযান ও শীর্ষ নেতৃত্বের লক্ষ্য:
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে ইজরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। ইজরায়েলের দাবি ছিল, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে ক্ষমতাচ্যুত করা। দ্রুত এই অভিযানে মার্কিন বাহিনীও যোগ দেয়। বর্তমানে ট্রাম্পের অবস্থান বদল নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। তিনি কি সত্যিই সেনা সরিয়ে নেবেন, নাকি এটি ইরানের ওপর মানসিক চাপ তৈরির কোনো কৌশল, তা নিয়ে ধন্দে বিশেষজ্ঞ মহল। তবে এই সংঘাত যে বিশ্ব রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে, তা নিশ্চিত।