“হরিয়ানা থেকে টনসিলকে এনেছে….'”-জেনেনিন কে এই টনসিল? মমতার ১০ ‘পাঞ্চলাইন’?

রাজনীতিতে তিনি যেমন লড়াকু, তাঁর রসবোধ ও বাচনভঙ্গিও তেমনই তীক্ষ্ণ। ২০২৬-এর প্রার্থী তালিকা ঘোষণার মঞ্চে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখা গেল সেই চেনা মেজাজে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর এদিনের বক্তব্যের ধার অনেকক্ষেত্রেই লালু প্রসাদ যাদবের বিখ্যাত রাজনৈতিক ব্যঙ্গকেও ছাপিয়ে গিয়েছে।
বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেরা ১০টি ‘বিস্ফোরক পাঞ্চলাইন’ একনজরে:
১. রহস্যময় ‘টনসিল’ আক্রমণ: এদিন মমতার নিশানায় ছিলেন হরিয়ানা থেকে আসা জনৈক আরএসএস ঘনিষ্ঠ আধিকারিক। তাঁকে ‘টনসিল’ বলে ব্যঙ্গ করে নেত্রী বলেন, “হরিয়ানা থেকে এক ‘টনসিল’কে এনেছে। সে নাকি ঠিক করছে রাজ্যের মুখ্যসচিব কে হবেন! নিজের টনসিলের চিকিৎসা করান আগে।” তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে নগদ টাকা ও অস্ত্র পাচারের জন্যই এঁদের আনা হয়েছে।
২. লাইন নয়, এবার ‘বি-লাইন’: ভোটারদের হয়রানির জবাব দিতে মমতার হুঁশিয়ারি, “সাধারণ মানুষ এবার লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়ে বিজেপিকে ‘বি-লাইন’ (বিদায়) করে দেবে। দিল্লির লাড্ডু আর এখানে ফুটবে না।”
৩. রাজ্যের ‘সুপার ইমার্জেন্সি’: কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের দিকে আঙুল তুলে তাঁর দাবি, বাংলায় এখন অলিখিত ‘সুপার ইমার্জেন্সি’ চলছে। রাজ্য সরকারকে কাজ করতে না দিয়ে আড়াল থেকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা হচ্ছে।
৪. রাজনৈতিক ‘শ্বাসরুদ্ধ’ করার ডাক: বিজেপির প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়ে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা, “ওদের রাজনৈতিকভাবে শ্বাসরুদ্ধ করে দিন।” তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, এই লড়াই হবে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ও ভোটের ময়দানে।
৫. টার্গেট ২২৬: আত্মবিশ্বাসের সুরে মমতা ঘোষণা করেন, “জোড়াফুলে ভোট দিন, ২০২৬ সালে আমরা ২২৬টি আসনে জিতে ক্ষমতায় ফিরছি।”
৬. ‘বাংলার জন্য এত লোভ কেন?’: কেন্দ্রীয় সংস্থা ও বিজেপির তৎপরতা দেখে মমতার প্রশ্ন, “সব ছেড়ে বাংলার প্রতি আপনাদের এত লোভ কেন? বাংলাকে দখল করতে মরিয়া কেন সবাই?”
৭. ‘বেটি বাঁচাও’ প্রকল্পের সমালোচনা: কেন্দ্রীয় প্রকল্পের প্রচার নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “অধিকাংশ টাকা তো বিজ্ঞাপনেই খরচ হয়ে যায়। কাজ কোথায়? বাস্তবে মহিলারা কতটা সুবিধা পাচ্ছেন?”
৮. ‘গ্যাস নেই, টাকা আছে’: রান্নার গ্যাসের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের দুর্দশার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “মানুষের ঘরে গ্যাস নেই, কিন্তু বিজেপির সভার জন্য কোটি কোটি নগদের অভাব নেই।”
৯. ভোটার তালিকা বিভ্রাট: মতুয়া, রাজবংশী ও সংখ্যালঘু ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “সবাইকে বাদ দিয়ে কি আদৌ নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব?”
১০. অনুপ্রবেশকারী তকমা নিয়ে পাল্টা: বিজেপির অনুপ্রবেশকারী তত্ত্বে জল ঢেলে মমতা সাফ জানান, “বাংলায় কোনও অনুপ্রবেশকারী নেই। যারা বাইরে থেকে এসে ভোট লুট করতে চায়, তারাই আসলে আসল অনুপ্রবেশকারী।”
প্রার্থী তালিকা ঘোষণার মঞ্চকে কার্যত মহাযুদ্ধের প্রস্তুতি মঞ্চে পরিণত করলেন মমতা। তাঁর এই শব্দবাণ এখন বাংলার অন্দরে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।