“ভাঙড় চাই না, ক্যানিং ফিরিয়ে দাও!” শওকত মোল্লার বাড়ির সামনে অগ্নিগর্ভ বিক্ষোভ, চরম অস্বস্তিতে তৃণমূল

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হতে না হতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতিতে আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ। হেভিওয়েট নেতা শওকত মোল্লাকে ক্যানিং পূর্ব থেকে সরিয়ে ভাঙড়ে প্রার্থী করায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তাঁর অনুগামীরা। মঙ্গলবার রাতের পর বুধবার সকাল থেকেও শওকতের বাড়ির সামনে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান শয়ে শয়ে সমর্থক। তাঁদের সাফ দাবি, ভাঙড় নয়, শওকত মোল্লাকেই ফেরাতে হবে ক্যানিং পূর্বের মাটিতে।

‘বহিরাগত’ তত্ত্বে উত্তাল ক্যানিং:
তৃণমূল এবার ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্রে বাহারুল ইসলামকে প্রার্থী করেছে। কিন্তু শওকত-অনুগামীদের অভিযোগ, বাহারুল ক্যানিংয়ের কেউ নন, তাঁর বাড়ি ভাঙড়ে। তাই তাঁদের প্রিয় নেতাকে কেন অন্য কেন্দ্রে পাঠানো হলো, তা নিয়েই শুরু হয়েছে সংঘাত। ভাঙড়ে এর আগে আইএসএফ-এর দাপট দেখেছে রাজ্য। সেই উত্তপ্ত মাটিতে শওকতকে পাঠানো আদতে ‘রাজনৈতিক বলি’ কি না, সেই প্রশ্নও তুলছেন অনেকে।

আরাবুল জল্পনা ও ভাঙড়ের কাঁটা বিছানো পথ:
ভাঙড়ের রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে বড় চর্চা আরাবুল ইসলামের অবস্থান। আরাবুল আইএসএফ-এ যোগ দিতে পারেন—এই জল্পনা যত জোরালো হচ্ছে, ততই শওকত মোল্লার লড়াই কঠিন হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। রক্তক্ষয়ী ভাঙড় ধরে রাখা যেখানে তৃণমূলের কাছে চ্যালেঞ্জ, সেখানে ঘরের মাঠ ক্যানিং ছাড়তে হওয়ায় শওকত নিজেও কি মানসিকভাবে প্রস্তুত?

শওকতের কৌশলী বয়ান:
বিক্ষোভের মুখে পড়ে শওকত মোল্লা অবশ্য শৃঙ্খলাবদ্ধ সৈনিকের মতোই কথা বলেছেন। তিনি জানান, “আমি মমতা-অভিষেকের নির্দেশ মেনেই চলব। তবে আমাদের সুখ-দুঃখের কথা অভিষেক দাদাকে জানানোর জায়গা আছে। আমি নিশ্চিতভাবে দাদার সঙ্গে কথা বলব এবং দল যা সিদ্ধান্ত নেবে তা-ই মাথা পেতে নেব।” তবে ক্যানিং ছাড়ার আক্ষেপ নিয়ে সরাসরি কোনো উত্তর মেলেনি তাঁর কাছ থেকে।

ভোটের মুখে ভাঙড় ও ক্যানিংয়ের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ঘাসফুল শিবিরের জন্য যে বড় মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াল, তা বলাই বাহুল্য।