“জোয়ার থাকলে সব ভালো লাগে, এখন ভাটায় নৌকা আটকেছে!” টিকিট না পাওয়া তারকাদের নিয়ে বিস্ফোরক দিলীপ

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে ফের স্বমহিমায় বঙ্গ বিজেপির ‘দাবাং’ নেতা দিলীপ ঘোষ। শনিবার ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মেগা সভায় মঞ্চে দিলীপের শরীরি ভাষা আর আত্মবিশ্বাস দেখে রাজনৈতিক মহলের স্পষ্ট ধারণা—উনিশ আর একুশের সাফল্যের রসায়ন ছাব্বিশে ফিরিয়ে আনতেই তাঁকে ফ্রন্টফুটে এনেছে দিল্লি। খড়গপুর থেকে প্রার্থী হিসেবে নিজের নাম পাকা হওয়ার পর নিউজ১৮ নেটওয়ার্কের এডিটর ইস্ট বিশ্ব মজুমদারকে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক সব মন্তব্য করলেন প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি।
তারকা প্রার্থীদের ব্রাত্য রাখা নিয়ে রৈবিক কটাক্ষ:
বিজেপির প্রার্থী তালিকায় এবার কোনো গ্ল্যামার বা টলিউড তারকা নেই কেন? এই প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ ঘোষের সোজাসাপটা জবাব, “নদীতে জোয়ার থাকলে সব ভালো লাগে। যখন ভাটা পড়ে, নৌকা আটকে যায়। যখন টিম জিততে থাকে, তখন সবাই রথ ভাবে ‘আমি দেব’। অন্তর্যামী আড়ালে হাসেন।” তিনি স্পষ্ট করেন, অতীতে যা হয়েছে তা হয়তো সব ঠিক ছিল না, তাই এবার তারকাদের বদলে লড়াইয়ের মাঠের কর্মীদের ওপর ভরসা রাখা হয়েছে।
ব্রিগেডের ভিড় বনাম ইভিএম-এর লড়াই:
মোদীর সভায় উপচে পড়া ভিড় দেখে কি জেতার বিষয়ে নিশ্চিত? দিলীপ ঘোষের বিশ্লেষণ কিন্তু অন্যরকম। তিনি মনে করিয়ে দেন, “জনসভা ভোটের সূচক নয়। একসময় জ্যোতি বসু বা রাজীব গান্ধীর সভাতেও বিশাল ভিড় হতো। গত লোকসভার আগে সিপিএম-ও তো ব্রিগেড ভরিয়েছিল, কিন্তু রেজাল্ট তো জিরো! সভা দিয়ে শুধু শক্তি প্রদর্শন হয়, কিন্তু ভোট পেতে হলে মাটিতে লড়াই করতে হয়।”
আরজি কর ও পরিবর্তনের ইঙ্গিত:
সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা কতটা? দিলীপের দাবি, “গত ২-৩ বছরে রাজ্যে এমন কিছু ঘটেছে যা মানুষের মনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। ভারতীয়রা সহজে বিদ্রোহ করে না, কিন্তু আরজি কর কাণ্ডের পর সাধারণ মানুষ যে ক্ষোভ দেখিয়েছে, তা ভোলার নয়। নিউটাউনে রাত ১টার সময় ২০ হাজার মানুষের জমায়েত অভূতপূর্ব। মানুষ শুধু সুযোগের অপেক্ষায় আছে।”
গ্যাসের দাম বৃদ্ধি বা আন্তর্জাতিক সংকট নিয়ে বিরোধীদের আক্রমণকে পাত্তা না দিয়ে দিলীপ ঘোষ সাফ জানান, ধর্মতলায় বসে ধরনা না দিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জে গিয়ে প্রতিবাদ জানানো উচিত। তাঁর মেজাজই বলে দিচ্ছে, ছাব্বিশের লড়াইয়ে দিলীপই হতে চলেছেন বিজেপির প্রধান মুখ।