তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় বড় চমক! টিকিট না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন অসিত, রাজনীতি ছাড়ার হুঁশিয়ারি

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের সুর। টিকিট না পেয়ে একদিকে যেমন কান্নায় ভেঙে পড়লেন চুঁচুড়ার তিনবারের বিদায়ী বিধায়ক অসিত মজুমদার, তেমনই সোশাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিলেন বলাগড়ের সাহিত্যিক বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী। দুজনেই দলের সিদ্ধান্তে চূড়ান্ত হতাশ এবং রাজনীতি থেকে দূরত্ব তৈরির ইঙ্গিত দিয়েছেন।
চুঁচুড়ায় অসিতের চোখে জল, নিশানায় দেবাংশু:
চুঁচুড়া বিধানসভা কেন্দ্রে এবার বিদায়ী বিধায়ক অসিত মজুমদারের বদলে তরুণ তুর্কি দেবাংশু ভট্টাচার্যকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। এই খবর চাউর হতেই ভেঙে পড়েন অসিত অনুগামীরা। স্বয়ং বিধায়ক সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “দল হয়তো মনে করেছে দেবাংশু জেতাতে পারবে, তাই ওকে টিকিট দিয়েছে। আমি চুনোপুঁটি লোক।” ২০১১ সাল থেকে টানা তিনবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভরসাযোগ্য মুখ ছিলেন তিনি। কিন্তু এবার বাতিলের তালিকায় নাম থাকায় তিনি সাফ জানিয়েছেন, “রাজনীতি থেকে বিশ্রাম নিলাম। এবার বই পড়ে আর ওকালতি করে সময় কাটাব। আমি কি দলের ঠ্যাকা নিয়েছি নাকি?” অন্য দলে যাওয়ার জল্পনা উড়িয়ে না দিলেও, আপাতত অনুগামীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবেন তিনি।
মনোরঞ্জনের ফেসবুক ডায়েরি ও ‘বহিরাগত’ তকমা:
অন্যদিকে, বলাগড় থেকে টিকিট না পেয়ে নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন মনোরঞ্জন ব্যাপারী। দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে সরব ছিলেন তিনি। টিকিট না পাওয়ার পর ফেসবুকে তিনি লেখেন, “গামছা গলায় এসেছিলাম, সেভাবেই চলে যাব।” নিজেকে ‘বহিরাগত’ উল্লেখ করে তিনি জানান, টিকিট যে পাবেন না তা তিনি আগেই আন্দাজ করেছিলেন। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর কোনও কথা না বললেও, তাঁর গলায় ধরা পড়েছে চরম অভিমান। বিধায়ক পদ ছেড়ে তিনি পুনরায় পূর্ণদমে সাহিত্যচর্চায় মন দেবেন বলে জানিয়েছেন।
রাজ্যের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে হেভিওয়েট প্রার্থীদের বাদ পড়া এবং নতুন মুখের আগমনে ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে যে বড়সড় রদবদল হতে চলেছে, তা স্পষ্ট। এখন দেখার, এই অভিমানী বিদায়ী বিধায়করা ভোটের আগে দলের অস্বস্তি কতটা বাড়ান।