“ভবানীপুরে ৮,০০০ ভোটের ব্যবধানই কি কাল হবে?”-মমতার কাছে ছাব্বিশে ‘কঠিন পরীক্ষা’?

একুশের নন্দীগ্রামের সেই হাইভোল্টেজ লড়াই এবার তিলোত্তমার বুকে। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শুভেন্দু অধিকারীকে প্রার্থী করে ২০২৬-এর নির্বাচনে মাস্টারস্ট্রোক দিল বিজেপি। একসময় যে কেন্দ্রকে তৃণমূলের ‘নিরাপদ দুর্গ’ মনে করা হতো, শুভেন্দুর আগমনে সেখানে এখন যুদ্ধের দামামা।
পরিসংখ্যানের লড়াই: স্বস্তিতে নেই ঘাসফুল শিবির? ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুরে ২৮ হাজারেরও বেশি ভোটে জিতেছিলেন। কিন্তু ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের তথ্য শাসক শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
-
কমেছে ব্যবধান: লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে তৃণমূলের লিড কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮,২৯৭ ভোটে।
-
বিজেপির দাপট: ২৬৯টি বুথের মধ্যে ১৪৯টিতেই এগিয়ে ছিল বিজেপি। এমনকি কলকাতা পুরসভার ৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৫টিতেই লিড পেয়েছিল গেরুয়া শিবির।
শুভেন্দুর কৌশল বনাম মমতার ইতিহাস শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই ‘ওয়ার রুম’ গড়ে স্নায়ুর চাপ বাড়াতে শুরু করেছেন। তাঁর লক্ষ্য, নন্দীগ্রামের মতো ভবানীপুরেও ‘জায়ান্ট কিলার’ হওয়া। অন্যদিকে, ইতিহাস বলছে ভবানীপুর ২০১১ সাল থেকে মমতার পাশেই থেকেছে। উপনির্বাচনগুলোতে তাঁর প্রাপ্ত ভোট ছিল ৭০ শতাংশের বেশি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মবিশ্বাসী বার্তা, “এবার অনেক বেশি ভোটে জিতব।”
ভোটের সমীকরণ: ট্রাম্প কার্ড কারা? ভবানীপুরের নির্বাচনী ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা নেয় এখানকার মিশ্র জনসংখ্যা:
-
বাঙালি ভোটার: প্রায় ৪০%।
-
অ-বাঙালি (গুজরাতি, মারওয়াড়ি, বিহারি): প্রায় ৪০%।
-
মুসলিম ভোটার: প্রায় ২০%। বিজেপি আশা করছে অ-বাঙালি ভোটব্যাঙ্ক তাদের দিকে ঝুঁকে থাকবে, অন্যদিকে তৃণমূলের ভরসা বাঙালি এবং সংখ্যালঘু ভোটের একীকরণ।
অতীতের স্মৃতি ও বর্তমানের চ্যালেঞ্জ এককালে এই কেন্দ্র ছিল কংগ্রেসের খাসতালুক। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থশঙ্কর রায় এখান থেকে দু’বার জয়ী হয়েছিলেন। ২০০৮ সালের পুনর্বিন্যাসের পর থেকেই এটি তৃণমূলের দখলে। তবে এবারের লড়াই সম্পূর্ণ আলাদা। একদিকে শুভেন্দুর ‘বুক ঠুকে’ লড়াইয়ের চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে মমতার নিজের গড় রক্ষার লড়াই।
ছাব্বিশের নির্বাচনে ভবানীপুর কি বাংলার রাজনীতির নতুন ইতিহাস লিখবে? নাকি নন্দীগ্রামের হারের মধুর প্রতিশোধ নেবেন মমতা? নজর থাকবে গোটা দেশের।