“পরের বাড়ি কাজ সেরে সোজা ভোটের ময়দানে!”-পরিচারিকা কলিতা মাজিতেই বাজি বিজেপি-র

সকাল পর্যন্ত অন্যের বাড়িতে বাসন মাজা, ঘর মোছা আর কাপড় কাচার কাজ করেছেন। কিন্তু দুপুরের পর পাল্টে গেল তাঁর পরিচয়। তিনি এখন আউশগ্রামের ‘ভোটের মুখ’। পেশায় পরিচারিকা কলিতা মাজিকে আরও একবার বিধানসভা নির্বাচনের টিকিট দিয়ে বড় চমক দিল বিজেপি। রুজি-রুটির টানে হাড়ভাঙা খাটুনি করা এই সংগ্রামী মহিলার ওপর শীর্ষ নেতৃত্বের এই ভরসা এখন রাজনীতির অন্দরমহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
কাজের কী হবে? উত্তর দিলেন কলিতা
পূর্ব বর্ধমানের গুসকরা পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কলিতা মাজি। ভোটের টিকিট পাওয়ার পর তাঁর দিনমজুরির কাজ কি বন্ধ হয়ে যাবে? bangla.aajtak.in-কে কলিতা জানালেন, “যাঁদের বাড়িতে কাজ করি, তাঁরাই আমায় সমর্থন করছেন। তাঁরাই বলেছেন এখন কিছুদিন কাজ বন্ধ রেখে মন দিয়ে ভোট করতে। জিতলে তো কথাই নেই, না হলেও পরে ফের কাজে ফেরার আশ্বাস দিয়েছেন তাঁরা।”
অতীতের হার থেকে শিক্ষা: জয়ের আশায় আত্মবিশ্বাসী
২০২১ সালেও আউশগ্রাম থেকে লড়েছিলেন কলিতা। সেবার তৃণমূলের অভেদানন্দ থাণ্ডারের কাছে মাত্র ১১ হাজার ৮১৫ ভোটে পরাজিত হন তিনি। কলিতার দাবি, “গতবার অল্পের জন্য হেরেছিলাম। এবার সেই ব্যবধানটুকু মুছে দেব। মানুষের মনে ভয় থাকলেও সবাই অন্তরে বিজেপি-কেই চায়।”
ভোটার তালিকায় ‘বিচারাধীন’ জটিলতা
কলিতা মাজির প্রার্থীপদ নিয়ে তৈরি হয়েছে এক আইনি বিতর্ক। প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাঁর নামের পাশে লেখা রয়েছে ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ (Under Adjudication) বা বিচারাধীন। প্রশ্ন উঠেছে, যাঁর নিজের ভোট দেওয়া অনিশ্চিত, তিনি কি প্রার্থী হতে পারেন? যদিও কলিতা এ বিষয়ে খুব একটা চিন্তিত নন। তিনি বলেন, “দল আমায় প্রচার করতে বলেছে, আমি প্রচার করব। নথিপত্র জমা দিয়েছি, বাকিটা দল বুঝবে।”
সংগ্রামী জীবন ও পারিবারিক সমীকরণ
স্বামী ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছেলেকে নিয়ে কলিতার অভাবের সংসার। রাজনীতির ময়দানে হেভিওয়েট প্রার্থীদের ভিড়ে কলিতার এই সাদামাটা জীবনই বিজেপির বড় অস্ত্র হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আউশগ্রামের মতো তপশিলি অধ্যুষিত আসনে ‘মেহনতি মানুষের প্রতিনিধি’ হিসেবে কলিতার ভাবমূর্তি তৃণমূলকে চাপে ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, পরিচারিকার কাজ সামলে বিধানসভার লড়াইয়ে কলিতার এই ঝাঁপ বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন দেখার, আউশগ্রামের মানুষ ঘরের মেয়েকে বিধানসভায় পাঠাতে কতটা প্রস্তুত।