LPG-সঙ্কটে অভুক্ত ১৫০ জন পরিজন, গ্যাসের অভাবে নিভল ‘হসপিটাল ম্যান’-এর হেঁশেল

সুদূর ইরানে যুদ্ধের দামামা বাজছে, আর তার জেরে কলকাতায় অন্নহীন হয়ে পড়লেন কয়েকশো অসহায় মানুষ। গত কয়েক বছর ধরে পিজি, শম্ভুনাথ পণ্ডিত বা এমআর বাঙুর হাসপাতালের সামনে যাঁকে দেখা যেত দুবেলা রোগীদের পরিজনদের মুখে আহার তুলে দিতে, সেই ‘হসপিটাল ম্যান’ পার্থ করচৌধুরীর হেঁশেল এখন খাঁ খাঁ করছে। সৌজন্যে— দেশজুড়ে চলা তীব্র এলপিজি (LPG) সঙ্কট।
হরমুজ প্রণালীর যুদ্ধ বনাম কলকাতার মানবিকতা
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের ‘লাইফলাইন’ নামে পরিচিত হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতের রান্নার গ্যাসের জোগানে। বিশেষত বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের হাহাকার এখন তুঙ্গে। পেশায় পুলকার চালক পার্থবাবু জানালেন, “বাণিজ্যিক সিলিন্ডার পাওয়াই যাচ্ছে না। আমার বিশাল রান্না হয়, গৃহস্থালির গ্যাসে তা সম্ভব নয়। বাধ্য হয়ে বুক ফেটে গেলেও পরিষেবা বন্ধ করতে হয়েছে।”
অভুক্ত ১৫০ পরিজন, মন খারাপ পার্থর
করোনা আবহেও যেখানে পার্থবাবু ঝুঁকি নিয়ে খাবার পৌঁছে দিয়েছেন, সেখানে আজ যুদ্ধের জেরে পরিস্থিতি হাতের বাইরে। প্রতিদিন দুপুরে প্রায় ৬০ জন এবং রাতে ৯০ জন— অর্থাৎ মোট ১৫০ জন রোগীর পরিজন তাঁর কাছে পেট ভরে খাবার পেতেন। সোমবারও হাসপাতালের সামনে গিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু সঙ্গে ছিল না সেই চেনা খাবারের ভ্যান। পার্থবাবু আবেগঘন গলায় বলেন, “এই মানুষগুলো খেতে পাচ্ছে না ভেবে আমার রাতে ঘুম আসছে না। ব্ল্যাকে গ্যাস কিনে নিয়ম ভাঙতে চাই না, তাই অপেক্ষা করছি কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।”
কবে ফিরবেন ‘হসপিটাল ম্যান’?
৫৫ বছর বয়সী এই সমাজসেবী আশা করছেন, চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে বা আগামী সপ্তাহের শুরুতে বাণিজ্যিক গ্যাসের জোগান স্বাভাবিক হতে পারে। পরিস্থিতি একটু শুধরালেই ফের খুন্তি নাড়বেন তিনি। তবে আপাতত কলকাতার রাজপথে ‘হসপিটাল ম্যান’-এর অভাব বোধ করছেন সেই সমস্ত মানুষগুলো, যাঁদের কাছে পার্থবাবুই ছিলেন ভগবান।
যুদ্ধের আঁচ কত গভীরে পৌঁছাতে পারে, পার্থ করচৌধুরীর এই বন্ধ হয়ে যাওয়া হেঁশেলই যেন তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।