মমতার গড়ে শুভেন্দুর হানা! ভবানীপুর থেকে লড়ার সিদ্ধান্তে তোলপাড় রাজ্য, নেপথ্যে কি মাস্টারস্ট্রোক?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হতেই বাংলার রাজনীতিতে সবথেকে বড় বিস্ফোরণটি ঘটালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। নিজের গড় নন্দীগ্রামের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুক ভবানীপুর থেকেও প্রার্থী হচ্ছেন তিনি। দিল্লির হাই-কমান্ডের সঙ্গে বৈঠকের পর শুভেন্দুর এই ‘ডাবল ধামাকা’র সিদ্ধান্তে কার্যত চাপে পড়ে গিয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।

নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর: শুভেন্দুর দুই ফ্রন্টের লড়াই
২০২১ সালে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে ‘জায়ান্ট কিলার’ তকমা পেয়েছিলেন শুভেন্দু। এবার তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীর ‘নিজস্ব দুর্গ’ ভবানীপুরে। দলীয় সূত্রের খবর, শুরুতে তাঁকে শুধু ভবানীপুর থেকে লড়ানোর পরিকল্পনা থাকলেও শুভেন্দু নিজেই নন্দীগ্রাম ছাড়তে রাজি হননি। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহর হস্তক্ষেপে দুই কেন্দ্র থেকেই তাঁর লড়াই নিশ্চিত হয়েছে।

কেন এই জোড়া লড়াই?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি বিজেপির একটি অত্যন্ত কৌশলী চাল। এর মাধ্যমে শুভেন্দু তিনটি লক্ষ্য পূরণ করতে চাইছেন:

মমতাকে নিজ কেন্দ্রে ব্যস্ত রাখা: ভবানীপুরে শুভেন্দু প্রার্থী হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রীকে নিজের আসন বাঁচাতে বাড়তি সময় দিতে হবে।

‘সেটিং’ তত্ত্ব উধাও: সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে লড়ে শুভেন্দু বার্তা দিতে চান যে বিজেপি এবার জয়ের জন্য ১০০ শতাংশ সিরিয়াস।

অঘোষিত সিএম ফেস: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইতে নেমে শুভেন্দুই কার্যত বিজেপির প্রধান মুখ হয়ে উঠছেন।

তৃণমূলের পাল্টা তোপ
শুভেন্দুর এই সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি ঘাসফুল শিবির। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের দাবি, “অনিশ্চয়তা থেকেই দুটি আসন থেকে লড়ছেন শুভেন্দু। তিনি দুটিতেই হারবেন।” তবে শুভেন্দু শিবির যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। বিশেষ করে ভবানীপুরের ভোটার তালিকায় গরমিল এবং ‘বিচারাধীন’ নামের বিষয়গুলো নিয়ে আগে থেকেই সরব ছিলেন তিনি।

ভোটের অঙ্ক ও সময়ের খেলা
তফশিল অনুযায়ী, নন্দীগ্রামে ভোট ২৩ এপ্রিল এবং ভবানীপুরে ২৯ এপ্রিল। অর্থাৎ নন্দীগ্রামের লড়াই শেষ করেই শুভেন্দু পুরো শক্তি দিয়ে ভবানীপুরে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারবেন। দোলের দিনেও ভবানীপুরের অলিগলিতে তাঁর জনসংযোগ প্রমাণ করে দিচ্ছে, এই লড়াইয়ের ব্লু-প্রিন্ট তিনি অনেক আগেই তৈরি করে ফেলেছিলেন।

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর— এই দুই কেন্দ্রই যে বাংলার রাজনীতির এপিসেন্টার হতে চলেছে, তা নিয়ে এখন কোনো সন্দেহ নেই।