সরকারি কর্মীদের অ্যাকাউন্টে এবার আসবে মোটা টাকা! ডিএ বকেয়া নিয়ে নবান্নের বড় ঘোষণা!

লোকসভা ভোটের দামামা বাজার আগেই বড়সড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (Dearness Allowance) মেটানো নিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সোমবার আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করল নবান্নের অর্থ দপ্তর। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। তবে এই টাকা পাওয়া যাবে নির্দিষ্ট কিছু শর্তে এবং ধাপে ধাপে।
কিস্তিতে মিলবে টাকা: ক্যালেন্ডার প্রকাশ
নবান্নের নির্দেশিকা অনুযায়ী, বকেয়া ডিএ একবারে নয়, বরং দুটি সমান কিস্তিতে মেটানো হবে। প্রথম কিস্তির টাকা সরকারি কর্মচারীরা পাবেন ২০২৬ সালের মার্চ মাসে। দ্বিতীয় কিস্তির জন্য অপেক্ষা করতে হবে ওই বছরের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত। মূলত ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে এই বিজ্ঞপ্তিতে।
কারা পাবেন নগদ, কার টাকা যাবে GPF-এ?
টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিভাগীয় ভাগ রেখেছে সরকার। গ্রুপ-ডি (Group-D) কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের জন্য খুশির খবর হলো, তাঁদের বকেয়া টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নগদ হিসেবে জমা পড়বে। তবে গ্রুপ-এ, বি এবং সি (Group A, B & C) স্তরের কর্মীদের ক্ষেত্রে বকেয়া টাকা সরাসরি তাঁদের জিপিএফ (GPF) অ্যাকাউন্টে জমা করে দেওয়া হবে। মৃত কর্মীদের ক্ষেত্রে তাঁদের নমিনি বা বৈধ উত্তরাধিকারীরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করলে এই সুবিধা পাবেন।
আদালতের নির্দেশ ও সরকারি অবস্থান
উল্লেখ্য, গত ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যকে দ্রুত বকেয়া মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল। নবান্ন জানিয়েছে, রাজ্যের আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের ব্যয়ের চাপ সামলাতে এই ধাপে ধাপে টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের বকেয়া নিয়ে পরবর্তীকালে আলাদা বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে কর্মী মহলে। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের নেতা চন্দন চট্টোপাধ্যায় একে ‘আদালত অবমাননা’ বলে দাবি করেছেন এবং বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।