সাবধান! শুধু ধূমপান নয়, ওরাল সেক্স থেকেও হতে পারে ক্যান্সার; ভারতে বাড়ছে নতুন আতঙ্ক

ভারতে গলার ক্যান্সারের কথা উঠলেই এতদিন গুটখা, খৈনি বা ধূমপানের কথা মাথায় আসত। কিন্তু চিকিৎসকদের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে উঠে আসছে এক বিস্ফোরক তথ্য। তামাক সেবন না করেও বহু মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন গলার ক্যান্সারে। আর এর নেপথ্যে রয়েছে HPV (Human Papillomavirus) বা হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস, যা মূলত ওরাল সেক্স বা মুখজৈব মিলনের মাধ্যমে ছড়াচ্ছে। আমেরিকা ও ব্রিটেনের মতো উন্নত দেশগুলোতে ইতিমধ্যে ধূমপানকে ছাপিয়ে এই ভাইরাসই গলার ক্যান্সারের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ওরাল সেক্স ও HPV: যোগসূত্র ঠিক কোথায়?
চিকিৎসকদের মতে, HPV-১৬ এবং HPV-১৮-এর মতো উচ্চ-ঝুঁকির ভাইরাসগুলো ওরাল সেক্সের মাধ্যমে গলার টিস্যুতে সংক্রমিত হয়। গুরগাঁওয়ের ফর্টিস হাসপাতালের সার্জিক্যাল অঙ্কোলজি প্রধান বি. নিরঞ্জন নায়েক জানিয়েছেন, এই ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করার পর কোষের স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ নষ্ট করে দেয়। সংক্রমণটি যদি দীর্ঘ ১০ থেকে ৩০ বছর শরীরে থেকে যায়, তবে তা ধীরে ধীরে ক্যান্সারে রূপ নেয়। মূলত টনসিল এবং জিভের গোড়ার অংশে (ওরোফ্যারিঞ্জিয়াল) এই মারণ রোগ বাসা বাঁধে।
ভারতীয় প্রেক্ষাপট: বদলাচ্ছে সমীকরণ
ভারতে এখনও পর্যন্ত তামাকই গলার ক্যান্সারের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত। তবে গত কয়েক বছরে দেখা যাচ্ছে, ৪০-৫০ বছর বয়সী এমন অনেক পুরুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন যাদের তামাক বা ধূমপানের কোনো ইতিহাস নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিরাপদ যৌন আচরণ, একাধিক সঙ্গী এবং আগের প্রজন্মের মধ্যে টিকার অভাবই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী।
যে লক্ষণগুলো দেখলেই সতর্ক হবেন
গলার ক্যান্সার শনাক্ত করা কঠিন নয় যদি সামান্য উপসর্গগুলোতে নজর রাখা যায়:
-
স্বরভঙ্গ: দীর্ঘ দিন ধরে গলা বসে থাকা বা কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন।
-
ব্যথা: দুই সপ্তাহের বেশি গলা ব্যথা বা কানে ব্যথা হওয়া।
-
গিলতে সমস্যা: খাবার বা জল গিলতে কষ্ট হওয়া।
-
ফোলা ভাব: গলা বা ঘাড়ে কোনো অস্বাভাবিক গাঁট বা মাংসপিণ্ড দেখা দেওয়া।
-
ওজন হ্রাস: ডায়েট বা ব্যায়াম ছাড়াই দ্রুত ওজন কমে যাওয়া।
বাঁচবার পথ: সচেতনতা ও ভ্যাকসিন
এই মারণ রোগ রুখতে সচেতনতাই প্রধান অস্ত্র। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক জরায়ুমুখের ক্যান্সার রুখতে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে HPV টিকাকরণ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গলার ক্যান্সার প্রতিরোধে পুরুষদের মধ্যেও এই টিকার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। দ্রুত রোগ শনাক্ত করা গেলে আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে ক্যান্সার জয় করা সম্ভব।