মাঝরাতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে মমতার কড়া চিঠি! শীর্ষ আধিকারিকদের বদলি নিয়ে সংঘাত তুঙ্গে

২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই রাজভবন বনাম নবান্ন কিংবা তৃণমূল বনাম বিজেপির লড়াই ছাপিয়ে এবার সরাসরি সংঘাত শুরু হলো নবান্ন ও নির্বাচন কমিশনের। ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং পুলিশের ডিজি-সহ একাধিক শীর্ষ আমলাকে একতরফাভাবে সরিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে গর্জে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার রাতেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে দীর্ঘ চিঠি লিখে নিজের গভীর উদ্বেগ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, ১৫ ও ১৬ মার্চ নির্বাচন কমিশন যে নির্দেশিকা জারি করেছে, তাতে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোকে কার্যত পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। কোনও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, কর্তব্য অবহেলা বা বিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ ছাড়াই কেন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মিনা এবং পুলিশের ডিজি পীযূষ পান্ডেকে সরানো হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বাদ যাননি কলকাতা পুলিশের কমিশনার সুপ্রতিম সরকারও। মমতার দাবি, “সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই এই ব্যাপক বদলির সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে, যা প্রশাসনিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী।”

চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী দেশের সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের প্রসঙ্গ টেনে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, নির্বাচন কমিশন সাধারণত রাজ্য সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করেই এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। কমিশনের কাছে আগে তিনটি নামের প্যানেল চাওয়া হতো, যেখান থেকে যোগ্য ব্যক্তিকে বেছে নেওয়া হতো। কিন্তু এবার সেই ঐতিহ্য ভেঙে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, এহেন পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের দীর্ঘদিনের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক অখণ্ডতাকে ক্ষুণ্ণ করার ঝুঁকি তৈরি করছে। উল্লেখ্য, আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল রাজ্যে দু’দফায় ভোট গ্রহণ এবং ৪ মে ফলাফল ঘোষণা। এই উত্তপ্ত আবহে মুখ্যমন্ত্রীর এই চিঠি লড়াইকে এক নতুন মাত্রা দিল।