মাঝরাতে নরক গুলজার কাবুল! পাক বিমানহানায় গুঁড়িয়ে গেল হাসপাতাল, মৃত ৪০০ ছাড়িয়ে

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আবহে এবার দাউ দাউ করে জ্বলে উঠল দক্ষিণ এশিয়া। ভারত মহাসাগরের প্রতিবেশী দুই রাষ্ট্র পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্ত সংঘাত এখন পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপ নিল। সোমবার গভীর রাতে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর নজিরবিহীন হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা আড়াইশো ছাড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কোনও সামরিক ঘাঁটি নয়, পাকিস্তান সরাসরি নিশানা করেছে ২,০০০ শয্যার একটি সরকারি হাসপাতাল এবং আবাসিক এলাকাকে।

আফগান সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, রাত ৯টা ৩০ মিনিট নাগাদ পাকিস্তানের জেএফ-১৭ থান্ডার (JF-17 Thunder) এবং এফ-১৬ (F-16) যুদ্ধবিমানগুলি কাবুলের আকাশসীমায় ঢুকে পড়ে। মাত্র ২৩ মিনিটের ঝোড়ো হামলায় কেঁপে ওঠে আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রক, রাষ্ট্রপতি ভবন এবং জিডিআই সদর দফতরের আশপাশের এলাকা। সবথেকে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয় কাবুল বিমানবন্দরের কাছের সরকারি হাসপাতালে। বোমা হামলার জেরে গোটা হাসপাতালটি মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় এবং ভেতরে থাকা বহু রোগী ও চিকিৎসক জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা যান। শুধু কাবুল নয়, নানগারহার প্রদেশেও বোমা বর্ষণ করেছে পাকিস্তান।

আফগান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এই ঘটনাকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই নৃশংসতার পরিণাম পাকিস্তানকে ভোগ করতে হবে। পাল্টা জবাবে আফগান বিমান বাহিনীও খাইবার-পাখতুনখোয়ার কোহাটে পাকিস্তানের সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টি হামলার দাবি করেছে। যদিও ইসলামাবাদ দাবি করছে, তারা কেবল অস্ত্রাগার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, কোনও অসামরিক এলাকা নয়। বর্তমানে ধ্বংসস্তূপ থেকে একের পর এক মৃতদেহ উদ্ধার হচ্ছে, যা দেখে শিউরে উঠছে বিশ্ববাসী।