উত্তরবঙ্গের ৩ মুসলিম MLA বিচারাধীন, বড়সড় বিপাকে ঘাসফুল শিবির?

ভোটের দামামা বাজার আগেই উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণে বজ্রপাত! প্রার্থী হওয়া তো দূরের কথা, ভোট দেওয়ার যোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠে গেল শাসকদলের তিন হেভিওয়েট বিধায়কের। বর্তমানে তাঁদের নাম ভোটার তালিকার ‘বিচারাধীন’ (Under Review) ক্যাটাগরিতে থাকায় চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে উত্তর দিনাজপুরের গোয়ালপোখর, মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর এবং দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জ কেন্দ্রে।
সংখ্যালঘু বিধায়কদের নিয়ে অস্বস্তিতে তৃণমূল
সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, এই তিনজনই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রভাবশালী মুখ। গোয়ালপোখরের টানা তিনবারের বিধায়ক তথা প্রতিমন্ত্রী মহম্মদ গোলাম রব্বানির নাম বিচারাধীন তালিকায় ওঠায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ২০১১ সাল থেকে যে কেন্দ্র তাঁর গড় হিসেবে পরিচিত, সেখানে তাঁর প্রার্থীপদ নিয়ে সংশয় তৈরি হতেই পথে নেমেছেন সমর্থকরা। তাঁদের সাফ অভিযোগ— এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং পক্ষপাতদুষ্ট চাল।
কী বলছেন ‘বিপাকে’ পড়া বিধায়করা?
পরিস্থিতি সামাল দিতে ময়দানে নেমেছেন খোদ বিধায়করাও। গোলাম রব্বানি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “বর্তমানে নাম বিচারাধীন তালিকায় আছে ঠিকই, তবে আমি আশাবাদী সম্পূরক তালিকায় নাম উঠে আসবে। আর যদি তা না হয়, আমাদের কাছে অন্য বিকল্প পথও খোলা আছে।”
একই সুর শোনা গেছে হরিশ্চন্দ্রপুরের বিধায়ক তথা প্রতিমন্ত্রী তাজমুল হোসেনের গলায়। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “বহু বছর ধরে এখানে বাস করছি, ভোট লড়ছি। অথচ হঠাৎ আমার ও আমার পরিবারের নাম কেন বিচারাধীন তালিকায় গেল, তা বোধগম্য নয়।” অন্যদিকে, কুমারগঞ্জের বিধায়ক তোরাফ হোসেন মোল্লার দাবি, নামের বানানে সামান্য ভুলের জন্য এই পাহাড়প্রমাণ জটিলতা তৈরি করা হয়েছে।
বিকল্প প্রার্থীর সন্ধানে তৃণমূল?
মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ঘনিয়ে আসছে। যদি তার আগে সম্পূরক তালিকায় নাম না ফেরে, তবে এই তিন হেভিওয়েটকে ছাড়াই লড়তে হতে পারে তৃণমূলকে। দলীয় সূত্রে খবর, শীর্ষ নেতৃত্ব আপাতত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। তবে ঝুঁকি না নিয়ে এই তিন কেন্দ্রে ‘প্ল্যান-বি’ বা বিকল্প প্রার্থীর নামও ভেবে রাখা হচ্ছে।
ভোটের ঠিক আগে উত্তরবঙ্গের এই ‘টেকনিক্যাল’ জটিলতা কি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, নাকি নির্বাচন কমিশনের কড়াকড়ি? এই প্রশ্নেই এখন সরগরম উত্তরবঙ্গের রাজনীতির অন্দরমহল।