“অন্য মহিলার সঙ্গে সম্পর্কে থাকা মানেই বাইগ্যামি নয়”-অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস কর্নাটক হাইকোর্টের

পরকীয়া সম্পর্ক থাকা আর দ্বিতীয় বিয়ে করা কি এক? এক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় এই দুইয়ের তফাত স্পষ্ট করে দিল কর্নাটক হাইকোর্ট। ৭৩ বছরের এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে তাঁর ৬৬ বছরের স্ত্রী ‘বাইগ্যামি’ (একই সঙ্গে দু’জন স্বামী বা স্ত্রী থাকা) বা দ্বিতীয় বিয়ের মামলা দায়ের করেছিলেন। সেই মামলা খারিজ করে বিচারপতি আর নটরাজ জানিয়ে দিলেন— “কারও সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে থাকা মানেই তাঁকে বিয়ে করা নয়।”
কী ঘটেছিল? বিবাদের নেপথ্যে:
অভিযোগকারী বৃদ্ধার দাবি ছিল, তাঁর স্বামী দীর্ঘদিনের দাম্পত্য উপেক্ষা করে ৫১ বছরের এক মহিলার সঙ্গে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে লিপ্ত এবং তাঁকে বিয়ে করেছেন। বৃদ্ধার ক্ষোভের কারণ ছিল আরও গভীর; তাঁর অভিযোগ ছিল, বাবার এই সিদ্ধান্তে পূর্ণ সমর্থন রয়েছে তাঁদের দুই ছেলেরও। এরপরই তিনি স্বামী ও দুই ছেলের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৪৯৪ ধারা (বাইগ্যামি) ও ৩৪ নম্বর ধারায় (সম্মিলিত উদ্দেশ্য) মামলা ঠুকে দেন।
আদালতের যুক্তি: কেন খারিজ হলো মামলা?
মামলাটি হাইকোর্টে উঠলে বিচারপতির পর্যবেক্ষণ এই মামলার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। আদালত তিনটি প্রধান কারণ উল্লেখ করেছে:
-
বিয়ের প্রমাণ কই? বিচারপতি আর নটরাজ স্পষ্ট বলেন, “বিয়ের কোনো প্রমাণ নেই। স্রেফ সম্পর্কের ভিত্তিতে তাকে বিয়ে বলে ধরা যায় না।” অভিযোগকারী স্ত্রী তাঁর স্বামী ঠিক কবে এবং কোথায় বিয়ে করেছেন, তার কোনো প্রামাণ্য নথি বা সাক্ষী পেশ করতে পারেননি।
-
ছেলেরা কেন আসামী? বাইগ্যামি আইনের (৪৯৪ ধারা) অধীনে কেবল স্বামী বা স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করা যায়। তাঁদের সন্তানদের বা পরিবারের অন্য সদস্যদের এই ধারায় আসামী করা যায় না। নিম্ন আদালত এক্ষেত্রে ভুল করেছিল বলে মন্তব্য করে হাইকোর্ট।
-
আইনের ব্যাখ্যা: আইনের দৃষ্টিতে দ্বিতীয় বিবাহ তখনই ‘বাইগ্যামি’ হিসেবে গণ্য হয়, যখন প্রথা অনুযায়ী বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার প্রমাণ থাকে। শুধুমাত্র লিভ-ইন বা পরকীয়া সম্পর্ককে এই ধারায় সাজা দেওয়া সম্ভব নয়।
বাইগ্যামি বা ৪৯৪ ধারার শাস্তি কী?
আইন অনুযায়ী, প্রথম স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকাকালীন এবং বিবাহবিচ্ছেদ না করে দ্বিতীয়বার বিয়ে করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। দোষী সাব্যস্ত হলে:
-
সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
-
এর সঙ্গে বড় অঙ্কের জরিমানারও বিধান রয়েছে।