BJP-র ‘জায়ান্ট কিলার’ মিশন! ভবানীপুরে জিতলে কি পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু?

২০২১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের কেন্দ্র ভবানীপুর ছেড়ে শুভেন্দু অধিকারীকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পৌঁছে গিয়েছিলেন নন্দীগ্রামে। ২০২৬-এ চাকা ঘুরল ঠিক উল্টো দিকে। এবার মুখ্যমন্ত্রীকে তাঁর নিজের পাড়ায় গিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তবে মমতার মতো নিজের কেন্দ্র ছেড়ে নয়, বরং নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই আসনেই প্রার্থী হয়ে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক চাল দিলেন বিজেপি নেতা।
শুভেন্দুর জোড়া স্ট্র্যাটেজি: কেন দুই আসন?
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শুভেন্দুর এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সুচিন্তিত।
-
সেফ জোন: নন্দীগ্রাম শুভেন্দুর খাসতালুক। সেখানে তাঁর জয় প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করে রাজনৈতিক মহল। ফলে ভবানীপুরে ফলাফল যাই হোক, বিধানসভায় তাঁর জায়গা পাকা থাকছে।
-
জায়ান্ট কিলার: যদি কোনওভাবে তিনি ভবানীপুরে মমতাকে টেক্কা দিতে পারেন, তবে তিনি বিজেপির সর্বকালের সেরা ‘জায়ান্ট কিলার’ হিসেবে উঠে আসবেন।
-
মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবি: দুটি আসনে জয় বা মমতাকে ভবানীপুরে কড়া টক্কর দিতে পারলে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে শুভেন্দু সবার চেয়ে এগিয়ে থাকবেন।
চক্রবেড়িয়ায় ‘হাইটেক’ ওয়াররুম: কড়া টক্করের প্রস্তুতি
শুভেন্দু মুখে যাই বলুন, ভবানীপুর জয়ের প্রস্তুতি তিনি আগেভাগেই শুরু করেছিলেন। কলকাতা পুরসভার ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের চক্রবেড়িয়া রোডে গড়ে তোলা হয়েছে বিশেষ ওয়াররুম।
-
কেন ৭০ নম্বর ওয়ার্ড? গত নির্বাচনে এই ওয়ার্ড থেকেই বিজেপি সবথেকে বেশি ‘লিড’ পেয়েছিল।
-
লক্ষ্য ২০ হাজার: শুভেন্দু একাধিক সভায় হুঙ্কার দিয়েছেন, “নন্দীগ্রামে হারিয়েছি, এবার ভবানীপুরেও হারাব। ২০ হাজার ভোটে হারিয়ে ওঁকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী করব।”
‘দলই সব’: প্রার্থীর মুখে দলীয় আনুগত্য
প্রার্থী হওয়ার আগে শুভেন্দু বলেছিলেন, “বিজেপিতে ব্যক্তিগত কোনও সিদ্ধান্ত হয় না। এটা পিসি-ভাইপোর পার্টি নয়। দল না লড়ালেও আমার আপত্তি নেই। তবে নন্দীগ্রামের সঙ্গে আমার আত্মিক সম্পর্ক, তাই নন্দীগ্রাম রেখেই অন্য কিছু ভাবা যেতে পারে।” বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব শেষ পর্যন্ত শুভেন্দুর সেই আত্মিক টান এবং রাজনৈতিক গুরুত্ব—উভয়কেই মর্যাদা দিয়ে দুটি আসনেই তাঁর নাম ঘোষণা করেছে।
সুকান্ত মজুমদারের কথায়, “দল মনে করেছে শুভেন্দুদা যোগ্য প্রার্থী, তাই তিনি দাঁড়াচ্ছেন।” এখন দেখার, ২৩ ও ২৯ এপ্রিলের এই মহাযুদ্ধে বাংলার ‘পাওয়ার হাউস’ কার দখলে যায়।