“২০২৬-শে ‘আদি’ নেতাদের ওপরেই ভরসা”-প্রার্থীতালিকায় কি স্ট্র্যাটেজি BJP-র?

২০২১-এর তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আর কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ গেরুয়া শিবির। দলবদলু নেতাদের বদলে এবার সংগঠনের একনিষ্ঠ ও পুরনো কর্মীদের ওপরেই ভরসা রাখল বিজেপি। সোমবার বিকেলে প্রকাশিত ১৪৪ জনের প্রথম দফার তালিকায় দেখা গেল ‘আদি’ বিজেপি নেতাদের জয়জয়কার। এই নির্বাচনে সবথেকে বড় চমক হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী লড়ছেন দুটি আসন— নিজের দুর্গ নন্দীগ্রাম এবং খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুর থেকে।
নীতিন নবীনের প্রথম বড় পরীক্ষা
বিজেপির নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের জমানায় এটিই প্রথম বড় নির্বাচন। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এবার আরএসএস (RSS), নিজস্ব আইটি সেল এবং একাধিক বেসরকারি এজেন্সির সমীক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রার্থী তালিকায় দুধকুমার মণ্ডলের মতো পোড়খাওয়া নেতাকে ফিরিয়ে এনে সংগঠনকে চাঙ্গা করার বার্তা দিয়েছে দিল্লি।
শুভেন্দুর জোড়া লড়াই ও স্বপন দাশগুপ্তর প্রত্যাবর্তন
-
শুভেন্দু অধিকারী: নন্দীগ্রাম ধরে রাখার পাশাপাশি ভবানীপুরে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ জানালেন তিনি।
-
স্বপন দাশগুপ্ত: রাসবিহারী কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছে প্রবীণ এই বুদ্ধিজীবী তথা প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদকে।
-
অন্যান্য: শিলিগুড়ি থেকে ড. শঙ্কর ঘোষ এবং আসানসোল দক্ষিণ থেকে অগ্নিমিত্রা পাল নিজের পুরনো কেন্দ্রেই লড়ছেন।
একনজরে বিজেপির প্রথম দফার গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীরা:
| জেলা | কেন্দ্র | প্রার্থী |
| কলকাতা | ভবানীপুর | শুভেন্দু অধিকারী |
| কলকাতা | রাসবিহারী | স্বপন দাশগুপ্ত |
| পূর্ব মেদিনীপুর | নন্দীগ্রাম | শুভেন্দু অধিকারী |
| শিলিগুড়ি | শিলিগুড়ি | ড. শঙ্কর ঘোষ |
| কোচবিহার | কোচবিহার উত্তর | সুকুমার রায় |
| মালদা | মালদা | গোপাল চন্দ্র সাহা |
| মুর্শিদাবাদ | বহরমপুর | সুব্রত মৈত্র |
| নদিয়া | রানাঘাট উঃ পঃ | পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায় |
| উত্তর ২৪ পরগনা | ভাটপাড়া | পবন কুমার সিং |
| দক্ষিণ ২৪ পরগনা | ডায়মন্ড হারবার | দীপক কুমার হালদার |
আর কে কোন কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হচ্ছেন দেখে নেওয়া যাক।
কোচবিহার উত্তর — সুকুমার রায়
সিতাই — সাবিত্রী বর্মন
দিনহাটা — অজয় রায়
তুফানগঞ্জ — মালতি রাভা রায়
কুমারগ্রাম — মনোজ কুমার ওরাঁও
কালচিনি — বিশাল লামা
আলিপুরদুয়ার — পরিতোষ দাস
ফালাকাটা — দীপক বর্মন
ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি — শিখা চট্টোপাধ্যায়
নাগরাকাটা — পুনা ভেংরা
মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি — আনন্দময় বর্মন
শিলিগুড়ি — ড. শংকর ঘোষ
ফাঁসিদেওয়া — দুর্গা মুর্মু
গোলপোখর — সরজিৎ বিশ্বাস
চাকুলিয়া — মনোজ জেন
করণদিঘি — অ্যাডভোকেট বিরাজ বিশ্বাস
কালিয়াগঞ্জ — উৎপল মহান্ত
রায়গঞ্জ — কৌশিক চৌধুরী
কুশমন্ডি — তাপস চন্দ্র রায়
কুমারগঞ্জ — সুবেন্দু সরকার
বালুরঘাট — বিদ্যুৎ রায়
তপন — বুধরাই টুডু
গঙ্গারামপুর — সত্যেন রায়
হরিরামপুর — দেবব্রত জুমদার
হবিবপুর — বিজয় মুর্মু
গাজোল — চিন্ময় দেব বর্মন
চাঁচল — রতন দাস
মালতীপুর — আশিস দাস
রাতুয়া — অভিষেক সিংহানিয়া
মানিকচক — গৌর চন্দ্র মণ্ডল
মালদা — গোপাল চন্দ্র সাহা
মথুরাপুর — নিবারণ ঘোষ
সুজাপুর — অভিরাজ চৌধুরী
সুতী — মহাবীর ঘোষ
রঘুনাথগঞ্জ — সুজিত পোদ্দার
লালগোলা — আমার কুমার দাস
ভগবানগোলা — ভাস্কর সরকার
মুর্শিদাবাদ — সৌরভ শংকর ঘোষ
রেজিনগর — বিপন ঘোষ
বেলডাঙা — ভারত কুমার ঝাওয়ার
বহরমপুর — সুব্রত মৈত্র
হরিহরপাড়া — তন্ময় বিশ্বাস
নওদা — রানা মণ্ডল
ডোমকল — নন্দলাল দাস
জলঙ্গি — বাবলা কুমার সরকার
করিমপুর — সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ
পলাশিপাড়া — অনিমা দত্ত
কল্যাণী — তপন ঘোষ
রানাঘাট উত্তর পশ্চিম — পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়
রানাঘাট উত্তর পূর্ব — অসীম বিশ্বাস
চাকদহ — বঙ্কিম ঘোষ
হরিণঘাটা — অসীম কুমার সরকার
কৃষ্ণনগর দক্ষিণ — সুকৃতি সরকার
আমদাঙ্গা — অরিন্দম ঘোষ
নাইহাটি — সুমিত্রা চট্টোপাধ্যায়
ভাটপাড়া — পবন কুমার সিং
বারানগর — জয় ঘোষ
দেগঙ্গা — তারুণ কান্তি ঘোষ
বসিরহাট উত্তর — নারায়ণ চন্দ্র মণ্ডল
বসন্তী — বিকাশ সরদার
কুলতলি — সুশান্ত মণ্ডল হালদার
পাথরপ্রতিমা — অসিত কুমার হালদার
কাকদ্বীপ — দীপঙ্কর জানা
রায়দিঘি — পলাশ রানা
ক্যানিং পূর্ব — অশীম মণ্ডল
ডায়মন্ড হারবার — দীপক কুমার হালদার
বিষ্ণুপুর — অগ্নিস্বর নস্কর
বজবজ — ড. তরুণ কুমার আড়ক
মেটিয়াবুরুজ — বেদ বাহাদুর সিং
ভাঙড় — সুবেন্দু অধিকারী
রসপুর — স্বপন দাস গুপ্ত
হাওড়া উত্তর — উমেশ রায়
শিবপুর — রুদ্রনীল ঘোষ
উলুবেড়িয়া দক্ষিণ — স্বামী নিত্যানন্দ পুরী মহারাজ
আমতা — অমিত সামন্ত
ডোমজুড় — গোবিন্দ হাজরা
সপ্তগ্রাম — স্বরাজ্য ঘোষ
তারকেশ্বর — শ্রীকান্ত পান
পুরশুড়া — বিমল ঘোষ
আরামবাগ — কৃষ্ণচন্দ্র বাগ
গোগ্রাট — প্রশান্ত দিঘার
খানাকুল — সুশান্ত ঘোষ
পাঁশকুড়া পূর্ব — সুব্রত মাইতি
কেন পুরনো মুখেই ভরসা?
বিজেপি সূত্রের খবর, ২০২১ সালে বহু তৃণমূল নেতাকে টিকিট দেওয়ার ফলে দলের পুরনো কর্মীদের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, তা মেটাতেই এবার আদি কর্মীদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের তত্ত্বাবধানে সংগঠনের প্রতিটি স্তরে আলোচনা করার পরই এই তালিকা চূড়ান্ত করেছে অমিত শাহ ও জেপি নাড্ডার সংসদীয় বোর্ড।