অধীর বনাম নাড়ুগোপাল: বহরমপুরের মসনদ দখলে কার পাল্লা ভারী? গুরু-শিষ্যের লড়াইয়ে তপ্ত মুর্শিদাবাদ!

বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই বহরমপুরের রাজনৈতিক ময়দান এখন কুরুক্ষেত্র। একদিকে মুর্শিদাবাদের দীর্ঘদিনের দাপুটে নেতা, ‘রবিনহুড’ খ্যাত অধীর চৌধুরী; অন্যদিকে তাঁরই একসময়ের ডানহাত তথা বর্তমান বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়। গুরু-শিষ্যের এই দ্বৈরথ কেবল কথা কাটাকাটিতে সীমাবদ্ধ নেই, তা গড়িয়েছে সাধারণ মানুষের পরিষেবা বন্ধ হওয়া পর্যন্ত। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের জেরে খোদ অধীর চৌধুরীর স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘লালন সেবা সমিতি’র জল প্রকল্পই বন্ধ করে দিয়েছে পুরসভা।
ঘটনার সূত্রপাত অধীর চৌধুরীর এক বিস্ফোরক দাবিকে কেন্দ্র করে। একটি সাংবাদিক বৈঠকে নথিপত্র পেশ করে অধীর অভিযোগ করেন, বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায় নিয়ম বহির্ভূতভাবে নিজের শাশুড়ির ফার্মকে ১০ কোটি টাকার টেন্ডার পাইয়ে দিয়েছেন। অধীরের দাবি, “পুর আইন অনুযায়ী চেয়ারম্যানের কোনও আত্মীয় পুরসভার ঠিকাদারি কাজ পেতে পারেন না। কিন্তু নাড়ুগোপালবাবু শাশুড়ির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করেছেন।”
এই আক্রমণের পাল্টা দিতে দেরি করেননি নাড়ুগোপাল। তিনি সাফ জানান, তাঁর শাশুড়ি শারীরিক অসুস্থতার কারণে ২০২৫ সালের জুলাই মাসেই তাঁর ফার্ম ৩২ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন। ফলে সেই ফার্মের সঙ্গে তাঁর পরিবারের এখন কোনও যোগ নেই। পাল্টাচাল হিসেবে নাড়ুগোপাল অধীরের ‘লালন সেবা সমিতি’র বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তাদের পানীয় জল প্রকল্প বন্ধ করে দেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মাত্র ৫০ পয়সা লিটারে সাধারণ মানুষ পরিশ্রুত জল পেতেন। কংগ্রেসের দাবি, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এই কাজ করা হয়েছে।
মজার বিষয় হলো, এই লড়াইয়ে অধীরের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাঁর আরেক প্রাক্তন শিষ্য তথা বর্তমান তৃণমূল নেতা হুমায়ুন কবীর। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এনজিও-র জল প্রকল্পে কোনও দুর্নীতি হয়েছে বলে তাঁর জানা নেই। উল্লেখ্য, ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে ইউসুফ পাঠানের কাছে হারলেও বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রে লিড ছিল অধীরের। এবার সেই কেন্দ্রেই গুরু-শিষ্যের লড়াই দেখার জন্য মুখিয়ে আছে জেলা। দিল্লি সবুজ সংকেত দিলে অধীর লড়বেন কংগ্রেসের টিকিটে, আর বিপরীতে ঘাসফুল শিবিরের বাজি নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়। ভোট ঘোষণার আগেই এই ‘কাদা ছেটাছেটি’র লড়াই বহরমপুরের বাতাসকে তপ্ত করে তুলেছে।