নির্বাচনী আচরণবিধি কি বিজেপির জন্য আলাদা? দুর্গাপুরে লক্ষ্মণ ঘোড়ুইয়ের পদক্ষেপে তুঙ্গে ঘাসফুল-পদ্ম সংঘাত!

রবিবার বিকেলে ভারতের নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গসহ চার রাজ্য ও এক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছে। নিয়ম অনুযায়ী, ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার মুহূর্ত থেকেই দেশজুড়ে আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি (Model Code of Conduct) কার্যকর হয়ে যায়। কিন্তু সেই বিধিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিতর্কে জড়ালেন দুর্গাপুর পশ্চিমের বিদায়ী বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই। অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচন ঘোষণার পরেও তিনি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হুইলচেয়ার, কানের মেশিন এবং চিকিৎসার সরঞ্জাম বিতরণ করেছেন।

দুর্গাপুরের স্টেশন বাজার এলাকায় আয়োজিত এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সোমবার উত্তাল হয়ে উঠেছে শিল্পাঞ্চল। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, ভোটারদের প্রভাবিত করতেই পরিকল্পিতভাবে এই সামগ্রী বিলি করেছেন বিজেপি বিধায়ক। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে তৃণমূল।

বিজেপি বিধায়কের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি সবার জন্য সমান। কিন্তু বিজেপির ক্ষেত্রে হয়তো আলাদা নিয়ম খাটে। বিশেষ করে নতুন নির্বাচন কমিশনার আসার পর ওরা সম্ভবত ধরাকে সরা জ্ঞান করছে। আমরা আইন মেনে চলি, ওরা মানুক বা না মানুক, মানুষ বিচার করবে।”

এদিকে, নিজের কাজের স্বপক্ষে এক বিচিত্র যুক্তি খাড়া করেছেন লক্ষ্মণ ঘোড়ুই। তিনি দাবি করেন, “ভোট ঘোষণার পর আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হতে ২৪ ঘণ্টা সময় লাগে। আমাদের এই পরিষেবা মূলক কাজ এক মাস ধরে চলছে। ৬০ ঊর্ধ্ব দুঃস্থ মানুষদের সাহায্য করতেই এই সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল অকারণ বিতর্ক তৈরি করছে।”

বিজেপি বিধায়কের এই ‘২৪ ঘণ্টা’ তত্ত্ব নিয়ে হাসাহাসি শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তৃণমূলের পশ্চিম বর্ধমান জেলা সহ-সভাপতি উত্তম মুখোপাধ্যায় পালটা তোপ দেগে বলেন, “নির্বাচন কমিশন কি তবে বিজেপির জন্য আলাদা আইন লিখেছে? ভোট ঘোষণার পর কোনোভাবেই ভোটারদের কিছু দিয়ে প্রভাবিত করা যায় না। আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে এই বিধিভঙ্গের কড়া অভিযোগ জানাব।” এখন দেখার, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের হুঁশিয়ারি অনুযায়ী বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না।