৯৮তম অস্কারে নারীশক্তির জয়জয়কার! ৪০ বছরের অপেক্ষা ফুরাল অ্যামি ম্যাডিগানের, ইতিহাস গড়লেন অটাম

অস্কারের ঝলমলে মঞ্চে এবার শুধুই নারীদের জয়গান। ৯৮তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস সাক্ষী থাকল এমন কিছু মুহূর্তের, যা বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। কেউ ভাঙলেন ৪০ বছরের রেকর্ড, কেউ আবার মাতৃত্বের ‘সুন্দর বিশৃঙ্খলা’কে উৎসর্গ করলেন নিজের শ্রেষ্ঠত্বের সম্মান।

অটাম ডুরাল্ড আরকাপা: ক্যামেরার নেপথ্যে নতুন ইতিহাস সিনেমার ময়দান থেকে মহাকাশ—নারীরা সর্বত্র। কিন্তু সিনেমাটোগ্রাফির মতো কঠিন ও প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে নারীদের আধিপত্য আজও বিরল। সেই প্রথা ভেঙে ইতিহাস গড়লেন অটাম ডুরাল্ড আরকাপা। ‘সিনার্স’ সিনেমার জন্য তিনি সেরা সিনেমাটোগ্রাফার হিসেবে অস্কার জয় করেন। এর আগে র‍্যাচেল মরিশন বা নতাশা ব্রেইয়াররা নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করলেও, গোল্ডেন লেডি হাতে তোলার কৃতিত্ব প্রথমবার অর্জন করলেন অটাম। তিনি প্রমাণ করলেন, লেন্সের ওপারে দাঁড়িয়ে জগতকে দেখার চোখ লিঙ্গভেদে আলাদা হয় না।

জেসি বাকলি: মাতৃত্বের জয়গান আইরিশ অভিনেত্রী জেসি বাকলি ‘হ্যামনেট’ সিনেমার জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতে মঞ্চে দাঁড়িয়ে এক আবেগঘন বার্তা দেন। ইউকে-তে ‘মা দিবস’-এর দিনে নিজের এই জয় তিনি উৎসর্গ করেন বিশ্বের প্রতিটি মাকে। স্বামী ফ্রেডি সোরেনসেনকে উদ্দেশ্য করে রসিকতা ও ভালোবাসার সুরে তিনি বলেন, “আমি তোমার ২০ হাজার সন্তানের মা হতে চাই।” বাকলি স্পষ্ট করে দেন, বিয়ে বা সন্তান ক্যারিয়ারের বাধা নয়, বরং এক শক্তির উৎস। তাঁর বক্তব্য, “মাতৃত্ব কোনো বোঝা নয়, এটি হৃদয়ের এক সুন্দর সৃষ্টিশীল বিশৃঙ্খলা।”

অ্যামি ম্যাডিগান: ৪০ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা ৭৫ বছর বয়সী অ্যামি ম্যাডিগানের জন্য এই রাত ছিল স্বপ্নের মতো। ১৯৮৬ সালে ‘টুইজ ইন আ লাইফটাইম’-এর জন্য প্রথম মনোনয়ন পেলেও অস্কার তাঁর অধরা ছিল। দীর্ঘ ৪০ বছর পর ‘উইপনস’ সিনেমায় ‘আন্ট গ্ল্যাডিস’ চরিত্রে হাড়হিম করা অভিনয়ের জন্য তিনি সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রীর পুরস্কার পেলেন। আবেগপ্লুত অ্যামি মঞ্চে দাঁড়িয়ে তাঁর স্বামী এড হ্যারিসকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “সে পাশে না থাকলে এই জয়ের কোনো অর্থই থাকত না।”