ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই পুলিশের বড় রদবদল! কমিশনের কড়া নির্দেশে কি আটকে যাবে বদলি?

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে জারি হয়ে গিয়েছে আদর্শ আচরণবিধি (Model Code of Conduct)। কিন্তু ভোটের এই নির্ঘণ্ট প্রকাশের ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই রাজ্য পুলিশে এক বড়সড় রদবদলের নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। ২৭ জন ইন্সপেক্টর এবং ১২টি থানার আইসি— সব মিলিয়ে মোট ৩৯ জন পদস্থ আধিকারিকের এই বদলি নিয়ে এখন তৈরি হয়েছে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা। প্রশ্ন উঠছে, কমিশনের কোপ কি পড়বে এই বদলির নির্দেশে?
নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট গাইডলাইন অনুযায়ী, ভোটের তারিখ ঘোষণার আগে যদি কোনও বদলির নির্দেশ জারি হয়ে থাকে, কিন্তু সংশ্লিষ্ট আধিকারিক যদি নতুন কর্মস্থলে গিয়ে যোগদান (Join) না করে থাকেন, তবে কমিশনের বিশেষ অনুমতি ছাড়া সেই বদলি কার্যকর করা যাবে না। অর্থাৎ, রবিবার বিকেলের আগে বিজ্ঞপ্তি বের হলেও যাঁরা এখনও পুরনো পোস্টেই রয়েছেন, তাঁদের নতুন চেয়ারে বসতে হলে আগে দিল্লির সবুজ সংকেত নিতে হবে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, জলপাইগুড়ি, মেদিনীপুর এবং হুগলির মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতে এই বদলি করা হয়েছিল।
ইতিমধ্যেই এই রদবদল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিরোধী দল বিজেপি এই ইস্যু নিয়ে রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। তাদের দাবি, ভোটের মুখে নিজেদের পছন্দের অফিসারদের বসাতেই এই তড়িঘড়ি পদক্ষেপ। তবে কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আদর্শ আচরণবিধি চালু হওয়ার পর নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত কোনও অফিসারকে রাজ্য সরকার নিজের ইচ্ছামতো সরাতে বা বসাতে পারবে না। প্রশাসনিক প্রয়োজনে অত্যন্ত জরুরি হলে কমিশনের দরজায় কড়া নাড়তে হবে নবান্নকে। এখন দেখার, এই ৩৯ জন পুলিশ কর্তা শেষ পর্যন্ত কমিশনের ছাড়পত্র পান নাকি তাঁদের ভাগ্য ঝুলে থাকে ভোটের ফল প্রকাশ পর্যন্ত।