হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে ভয়াবহ অ্যাসিড হামলা! হুমকি চিঠির ১ ঘণ্টার মধ্যেই শেষ করার চেষ্টা?

শনিবার দুপুরে বালুরঘাটের বুকে ঘটে গেল এক নৃশংস ঘটনা, যা কার্যত শিউরে ওঠার মতো। বালুরঘাট জেলা হাসপাতালের ইউএসজি বিভাগের অস্থায়ী কর্মী সন্তোষী রজক যখন কাজ সেরে টোটোয় চেপে বাড়ি ফিরছিলেন, ঠিক তখনই তাঁর ওপর নেমে এল প্রাণঘাতী হামলা। রঘুনাথপুর বিএম হাইস্কুলের সামনে পৌঁছাতেই স্কুলের পাঁচিলের আড়াল থেকে অতর্কিতে তাঁকে লক্ষ্য করে অ্যাসিড ছোঁড়ে একদল দুষ্কৃতী। মুহূর্তের মধ্যে যন্ত্রণায় কাতরে ওঠেন সন্তোষী দেবী; তাঁর বাম হাত ও পায়ের অনেকটা অংশ ঝলসে যায়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় টোটোটিও।

এই ঘটনার নেপথ্যে উঠে আসছে এক চাঞ্চল্যকর হুমকি চিঠির তত্ত্ব। জানা গিয়েছে, সন্তোষী দেবীর স্বামী ছোটন রজক ছিলেন শহর আইএনটিটিইউসি-র প্রাক্তন সভাপতি। তাঁর মৃত্যুর পর বর্তমানে বৃদ্ধা মা ও মেয়েকে নিয়ে সন্তোষী দেবীর সংসার। পরিবারের অভিযোগ, জমি সংক্রান্ত বিবাদ দীর্ঘদিনের। হামলার দিন দুপুরেও দুই অপরিচিত যুবক বাড়িতে এসে তাঁর বৃদ্ধা মাকে হুমকি দিয়ে গিয়েছিল। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হামলার ঠিক আগে হাসপাতাল চত্বরে কেউ একজন সন্তোষী দেবীর দিকে একটি চিরকুট ছুঁড়ে মারে, যেখানে লেখা ছিল— “কেস তোল, না হলে এক ঘণ্টার মধ্যে মা-মেয়েকে কেটে জলে ফেলে দেব।”

হুমকি চিঠির সেই আল্টিমেটাম যে এতটা ভয়াবহ রূপ নেবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি কেউ। বর্তমানে বালুরঘাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আক্রান্ত মহিলা। তাঁর মা রামিয়া ভান্ডারি রবিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি আতঙ্কে কাঁপতে কাঁপতে বলেন, “ওরা বাড়িতে এসেও হুমকি দিয়েছিল। আমাদের নিরাপত্তা কোথায়?” পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।