‘আমাদের ক্ষমা করে দিও বাবা… এবার যাওয়ার সময় হয়েছে’; দিল্লির এইমসে চিরবিদায়ের পথে ১৩ বছরের ‘জীবন্ত লাশ’ হরিশ

দীর্ঘ ১৩ বছরের এক অমানবিক লড়াইয়ের করুণ সমাপ্তি হতে চলেছে। গত শনিবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গাজিয়াবাদের বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী হরিশ রাণাকে দিল্লি এইমসে (AIIMS) নিয়ে আসা হয়েছে। চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল ধাপে ধাপে তাঁর শরীর থেকে সমস্ত জীবনদায়ী সাপোর্ট সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ২০১৩ সালে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময় মেসের চারতলা থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর চোট পান হরিশ। সেই থেকে তিনি ‘ভেজিটেটিভ স্টেট’-এ। প্রাণ থাকলেও চেতনা ফেরেনি কোনোদিন।
সম্প্রতি হরিশকে গাজিয়াবাদ থেকে বিদায় জানানোর একটি ২২ সেকেন্ডের ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা দেখে চোখের জল ধরে রাখা দায়। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, হরিশের শয্যাপাশে বসে মা অঝোরে কাঁদছেন। ব্রহ্মকুমারী দলের এক সদস্যা হরিশের কপালে শেষ তিলক পরিয়ে দিচ্ছেন আর বলছেন, “সবাইকে ক্ষমা করে দিও, এবার যাওয়ার সময় হয়ে গেছে…।” মা-বাবার একটাই হাহাকার ছিল— “আমরা চলে গেলে এই বিছানায় পড়ে থাকা ছেলেটাকে কে দেখবে?” সেই ভয় থেকেই সন্তানের জন্য ‘নিষ্কৃতি মৃত্যু’ বা প্যাসিভ ইউথেনেশিয়ার আর্জি জানিয়েছিলেন তাঁরা।
হরিশের বাবা অশোক রাণা গত ১৪ বছর ধরে ছেলের সেবা করতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন। ট্র্যাকিওস্টোমি টিউব আর গ্যাস্ট্রোজেজুনোস্টোমি টিউবের সাহায্যে বছরের পর বছর বেঁচে থাকা হরিশের শরীরে উন্নতির কোনো আশা ছিল না। শীর্ষ আদালতের রায়ে অবশেষে সেই যন্ত্রণার অবসান হতে চলেছে। রাজনগর অ্যাসোসিয়েশনের বাসিন্দারাও হরিশের পরিবারের এই তিল তিল করে শেষ হয়ে যাওয়ার সাক্ষী ছিলেন। এক বুক যন্ত্রণা নিয়ে আজ এক শান্ত বিদায়ের পথে হাঁটছে রাণা পরিবার।