‘মুখের ওপর ডিএ ছুড়ে দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী!’ ভোট ঘোষণা হতেই চেনা মেজাজে মমতাকে তোপ দিলীপের

নির্বাচনের দামামা বাজতেই ফের স্বমহিমায় অবতীর্ণ হলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। বকেয়া ডিএ থেকে শুরু করে পুলিশ-সচিব বদল—প্রতিটি ইস্যুতেই শাসকদল তৃণমূলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন তিনি। ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের ঠিক আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারি কর্মচারীদের ডিএ প্রদানের ঘোষণাকে ‘নির্বাচনী ছকবাজি’ বলে আখ্যা দিলেন মেদিনীপুরের প্রাক্তন সাংসদ। দিলীপের খোঁচা, “সব ব্যাপারেই মরার সময় হরির নাম! এতই যদি দরদ তবে কেন সুপ্রিম কোর্টে লড়াই করতে গিয়েছিলেন? এখন দেখছেন আর রাস্তা নেই, তাই ভোটের আগে মুখের ওপর ডিএ ছুড়ে দিচ্ছেন।”

এদিকে, নির্বাচন কমিশন রাজ্যের দুইজন গুরুত্বপূর্ণ সচিবকে সরিয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গেও দিলীপ ঘোষের কণ্ঠে শোনা গেল চরম অনীহা। তিনি সাফ জানান, ছোটখাটো আধিকারিক বা সচিব বদলে ভোট লুট আটকানো সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, “আমরা তো পুরো সরকারটাই বদলাতে চাইছি। ওসি, ডিএম বা চিফ সেক্রেটারি বদলে বিশেষ সুবিধা হবে না, মানুষ মুখ্যমন্ত্রীর বদল চায়।” একইসঙ্গে ভোটের আগে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, মন্ত্রীর গাড়ি ভাঙচুর হচ্ছে, পুলিশ ইঁট খাচ্ছে অথচ কেন্দ্রীয় বাহিনী সক্রিয় হচ্ছে না।

অন্যদিকে, আজ রাজপথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদযাত্রাকে কটাক্ষ করে দিলীপ বলেন, “ইলেকশন এলে সবার গ্যাস বেরিয়ে যাবে। মোদী আছেন বলেই সকলে ভালো আছেন।” ভোটার তালিকা থেকে ৬০ লক্ষ নাম বাদ যাওয়া এবং আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকির ভোট বয়কটের ডাক প্রসঙ্গেও বিজেপির এই দাপুটে নেতা স্পষ্ট করেন, তাঁরাও চান প্রতিটি ভোটারের সঠিক ভেরিফিকেশন হোক এবং কোনও আসল ভোটার যেন বাদ না পড়েন। ভোট ঘোষণার পর দিলীপের এই ‘ফায়ারব্র্যান্ড’ মন্তব্য বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ বাড়িয়ে দিল।