বন্ধ হবে না হরমুজ প্রণালী! চিনকে চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের অশনি সংকেত

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনীভূত হতেই বিশ্বের জ্বালানি মানচিত্রে নেমে এসেছে মহাবিপর্যয়। ইরান সরকার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে জাহাজ চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ জারি করায় বিশ্বজুড়ে তীব্র হয়েছে জ্বালানি সংকট। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আমেরিকা ও ইজরায়েলের কোনও জাহাজকে এই পথ দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। এই পরিস্থিতিতে সরাসরি চিনের ওপর চাপ বাড়ালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, চিন যদি হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা কাটাতে এগিয়ে না আসে, তবে আসন্ন ‘ট্রাম্প-জিনপিং’ হাই-প্রোফাইল বৈঠক স্থগিত করে দেওয়া হতে পারে।
বিশ্বের মোট তেল পরিবহণের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে যায়। ফলে হরমুজ অবরুদ্ধ হওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে তেলের বাজারে, যার ফলে আকাশছোঁয়া হয়েছে জ্বালানির দাম। ট্রাম্পের দাবি, চিন তাদের প্রয়োজনীয় তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ এই পথ দিয়েই সংগ্রহ করে। তাই এই জলপথ সুরক্ষিত রাখা চিনেরও দায়িত্ব। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “যারা এই প্রণালী থেকে সুবিধা পায়, তাদেরই এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।”
হরমুজ জট কাটাতে কার্যত একটি আন্তর্জাতিক সামরিক ও কূটনৈতিক জোট গঠনের পথে হাঁটছে আমেরিকা। এই জোটে ব্রিটেন, ফ্রান্স, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়াকেও শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। চলতি মাসের শেষেই চিনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের কথা ট্রাম্পের। তবে বেজিং যদি ইরানকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্রিয় ভূমিকা পালন না করে, তবে সেই আলোচনার টেবিলে বসতে রাজি নন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এই কূটনৈতিক টানাপোড়েনের ফলে আগামী দিনে বিশ্ব অর্থনীতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে বিশেষজ্ঞ মহল।