বাংলার যে ৬ ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ খেলা ঘুরিয়ে দিতে পারে 2026 -এর ভোটে, হতে পারে বড় চমক?

বেজে গিয়েছে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের রণভেরি। শনিবার নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গসহ পাঁচ রাজ্যের ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করতেই বদলে গিয়েছে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ। অতীতে আট দফায় ভোট হলেও, এবার মাত্র দুই দফায় (২৩ এপ্রিল ও ২৯ এপ্রিল) সম্পন্ন হবে বাংলার নির্বাচন। ২৯৪টি আসনের এই মহারণে কে শেষ হাসি হাসবে, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণে ব্যস্ত রাজনৈতিক মহল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গোটা রাজ্যের মধ্যে এমন ৬টি নির্দিষ্ট ‘ব্যাটেলফিল্ড’ বা রণক্ষেত্র রয়েছে, যা আসলে ঠিক করে দেবে আগামী পাঁচ বছর বাংলার মসনদ কার দখলে থাকবে।
১. জঙ্গলমহল: বিজেপির ‘লঞ্চপ্যাড’ বনাম দিদির ‘উন্নয়ন’
পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরের আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলি ঐতিহাসিকভাবেই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হয়ে উঠেছে। ২০১৯ ও ২০২১-এ এখানে গেরুয়া শিবিরের দাপট দেখা গিয়েছিল। এবার একদিকে বিজেপির ‘হিন্দুত্ব ও আদিবাসী পরিচয়’-এর রাজনীতি, অন্যদিকে তৃণমূলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ ও ‘দুয়ারে সরকার’-এর মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের লড়াই। জঙ্গলমহলের ভোট যেদিকে ঘুরবে, নবান্নের পথ তাদের জন্য অনেকটাই প্রশস্ত হবে।
২. শিল্প-কৃষি জোন: হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ময়দান
হুগলি, হাওড়া, ব্যারাকপুর ও দুর্গাপুরের মতো শিল্পাঞ্চল এবং মেদিনীপুরের কৃষি বলয় এবার বড় ফ্যাক্টর। ২০২১-এ এই অঞ্চলের অনেক আসনে তৃণমূল ৫০০০-এরও কম ভোটের ব্যবধানে জিতেছিল। বেকারত্ব ও বন্ধ কারখানার ইস্যুকে হাতিয়ার করছে বিজেপি, আর শাসকদলের ভরসা শ্রমিক ইউনিয়ন ও কৃষক বন্ধু প্রকল্প। সামান্য ভোট এদিক-ওদিক হলেই এখানে ওলটপালট হতে পারে ফলাফল।
৩. কলকাতা দুর্গ: তৃণমূলের অপ্রতিরোধ্য গড়?
কলকাতা ও শহরতলি এলাকা বরাবরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘অভেদ্য দুর্গ’। গত নির্বাচনে এখানে বিজেপি দাঁত ফোটাতে পারেনি। তবে এবার নিয়োগ দুর্নীতি ও একাধিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ তুলে মধ্যবিত্ত ভোটারদের মনে দাগ কাটার চেষ্টা করছে পদ্ম শিবির। এই দুর্গে ফাটল ধরানোই এখন বিজেপির বড় চ্যালেঞ্জ।
৪. সীমান্ত এলাকা: সিএএ (CAA) বনাম মতুয়া ভোট
নদিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনার বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী অন্তত ৩০-৪০টি আসনে মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রভাব প্রশ্নাতীত। সিএএ কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিজেপি এই ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতে মরিয়া। পাল্টা এনআরসি-বিরোধী প্রচার ও বাঙালি অস্মিতাকে অস্ত্র করেছে তৃণমূল। মতুয়ারা যার দিকে, সরকার গড়ার চাবিকাঠি থাকবে তার হাতেই।
৫. সংখ্যালঘু এলাকা: নতুন শক্তির উত্থান ও ভোট কাটাকুটির অঙ্ক
মুর্শিদাবাদ ও মালদার মতো জেলাগুলি তৃণমূলের নিশ্ছিদ্র ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও এবার সমীকরণ জটিল। প্রাক্তন তৃণমূল নেতা হুমায়ুন কবীরের নতুন দল ঘোষণা এবং বাম-কংগ্রেসের পুনরুত্থান শাসকদলের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ভোট কাটাকুটির অঙ্কে এখানে বিজেপির আসন বাড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।
৬. উত্তরবঙ্গ: বিজেপির শক্তি বনাম তৃণমূলের টার্গেট
উত্তরবঙ্গ বরাবরই বিজেপির শক্ত জমি। রাজবংশী পরিচয়, চা বলয় ও গোর্খাল্যান্ড ইস্যু এখানে প্রধান নির্বাচনী হাতিয়ার। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার উত্তরবঙ্গ জয়ে বিশেষ জোর দিয়েছেন। উত্তরবঙ্গে বিজেপিকে রুখতে পারলে তৃণমূলের আসন সংখ্যা ২৫০-এর লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানো সহজ হবে।
এক নজরে ভোটের নির্ঘণ্ট:
-
প্রথম দফা: ২৩ এপ্রিল (১৫২টি আসন)
-
দ্বিতীয় দফা: ২৯ এপ্রিল (১৪২টি আসন)