‘বিজেপির ক্রীতদাস কমিশন!’ দু’দফায় ভোট ঘোষণা হতেই রণক্ষেত্র বাংলার রাজনীতি

রবিবাসরীয় বিকেলে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। এবারের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে মাত্র দু’দফায়— ২৩ ও ২৯ এপ্রিল। কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে বিজেপি ‘স্বাগত’ জানালেও, কমিশনের নিরপেক্ষতা ও ‘বিচারাধীন ভোটার’ ইস্যু নিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল, বাম এবং কংগ্রেস।

তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে কমিশনকে ‘বিজেপির ক্রীতদাস’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ২০২১ সালে কোভিডের সময় আট দফায় ভোট করানো হয়েছিল বিজেপির সুবিধার্থে, আর এবার তাদেরই চাপে দুই দফায় ভোট হচ্ছে। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার দোহাই দিয়ে যে ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম ‘বিচারাধীন’ রাখা হয়েছে, তাঁদের ভোটাধিকারের ভবিষ্যৎ কী? বিহার থেকে অস্ত্র ঢোকা নিয়ে কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

একই সুরে সুর মিলিয়ে বাম নেতা সুজন চক্রবর্তী ও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সুজন চক্রবর্তীর দাবি, “ভারতের নির্বাচনী আইনে ‘বিচারাধীন ভোটার’ বলে কিছু হয় না।” যদি কোনো কেন্দ্রে জয়ের ব্যবধান ৫ হাজার হয় এবং সেখানে ১২ হাজার ভোটার বিচারাধীন থাকেন, তবে কমিশন কী জবাব দেবে— সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কংগ্রেস ইতিমধ্যেই এই ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে।

অন্যদিকে, বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে দাবি করেছেন, বাংলার মানুষ বর্তমান সরকারকে বিসর্জন দিতে তৈরি। তিনি ক্ষমতায় এলে সপ্তম পে-কমিশন ও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ৩০০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই একদিকে যেমন প্রতিশ্রুতির বন্যা, অন্যদিকে আইনি ও সাংবিধানিক প্রশ্নে সরগরম শৈলশহর থেকে সাগরদ্বীপ।