“বাংলায় ৮ দফা ভোট থেকে কেন সোজা ২ দফা? জেনেনিন কমিশনের কি যুক্তি…?

দীর্ঘ সাড়ে তিন দশকের প্রতীক্ষার অবসান। ১৯৯১ সালের পর ২০২৬—মাঝে কেটে গিয়েছে দীর্ঘ ৩৫ বছর। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ সাক্ষী হতে চলেছে এক অভাবনীয় পরিবর্তনের। নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিল, ২০২১ সালের সেই দীর্ঘ এক মাসের ৮ দফার ভোট প্রক্রিয়া ইতিহাস হতে চলেছে; এবার মাত্র ২ দফায় সম্পন্ন হবে বাংলার ভাগ্য নির্ধারণ।
কেন এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত? মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেই এই সিদ্ধান্ত। কমিশনের মতে:
-
দ্রুত প্রক্রিয়া: ২ দফায় ভোট হলে তা সব পক্ষের জন্যই সুবিধাজনক এবং সময়সাপেক্ষ হবে না।
-
নিরাপত্তা ও বাহিনী: বর্তমানে রাজ্যে পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মজুত রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি ছিল, যদি বাহিনী ঠিক থাকে তবে দফায় দফায় ভোট টানার প্রয়োজন নেই।
-
অভিযুক্ত পুলিশদের ‘নো এন্ট্রি’: ২০২১-এর ভোট পরবর্তী হিংসায় যেসব পুলিশ অফিসারের নাম জড়িয়েছিল, তাঁদের এবার নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখার কড়া নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
২০২১ বনাম ২০২৬: কী বদলাল? ২০২১ সালে করোনার আবহে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরানোর সুবিধার্থে ৮ দফায় ভোট হয়েছিল। ২৭ মার্চ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত চলেছিল সেই ম্যারাথন প্রক্রিয়া। কিন্তু এবার বাম, কংগ্রেস ও বিজেপির একযোগে ১ বা ২ দফায় ভোটের দাবিকে মান্যতা দিল কমিশন।
এক নজরে বাংলার ভোটের ইতিহাস: কখনও ৫, কখনও ৬, আবার কখনও ৮ দফা—গত কয়েক দশকে বাংলার ভোট মানেই ছিল লম্বা নির্ঘণ্ট। ২০২৬ সালে ২ দফার এই ভোট একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাবে, অন্যদিকে রাজনৈতিক উত্তাপকে এক ঝটকায় কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।