আমেরিকা-ইজরায়েলের রক্তচক্ষুর মাঝেই বড় ঘোষণা! চিন-রাশিয়ার থেকে সরাসরি যুদ্ধ-সহযোগিতা পাচ্ছে ইরান?

মধ্যপ্রাচ্যে ঘনিয়ে আসা যুদ্ধের কালো মেঘের মাঝেই বিস্ফোরক দাবি করলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘MS NOW’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে চলা এই চরম উত্তেজনার আবহে চিন ও রাশিয়া তেহরানকে পূর্ণ সামরিক সহযোগিতা প্রদান করছে। এই দুই শক্তিধর রাষ্ট্রকে ইরানের ‘কৌশলগত অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করে আরাঘচি জানান, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্তরের পাশাপাশি সামরিক ক্ষেত্রেও তাঁদের সম্পর্ক এখন অন্য উচ্চতায়।

হরমুজ প্রণালী ও যুদ্ধের হুমকি: বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে আরাঘচির বার্তা অত্যন্ত কড়া। তিনি জানান, এই পথ পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি, তবে এটি কেবল ইরানের ‘শত্রু’ এবং তাদের মিত্রদের জন্য নিষিদ্ধ। অর্থাৎ, আমেরিকা বা ইজরায়েলপন্থী দেশগুলোর জ্বালানি সরবরাহ যে কোনো মুহূর্তে থমকে যেতে পারে। শুধু তাই নয়, তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, আমেরিকা যদি ইরানের তেল পরিকাঠামোয় আঘাত করে, তবে পারস্য উপসাগরে অবস্থিত যে কোনো মার্কিন মালিকানাধীন বা মার্কিন অংশীদারিত্ব থাকা তেল শোধনাগারে পাল্টা হামলা চালাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।

পরমাণু বিতর্ক ও মার্কিন মধ্যস্থতা: ফেব্রুয়ারিতে জেনেভায় মার্কিন আলোচক স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে আরাঘচি জানান, সেই আলোচনায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছিল। তবে আমেরিকা এখন নিজেদের আগ্রাসন ঢাকতে অজুহাত খুঁজছে। তিনি স্পষ্ট করেন, ইরান কখনোই বোমা তৈরির কথা বলেনি। তবে ৪৪০ কিলোগ্রাম ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত থাকার বিষয়টি তিনি গোপন করেননি। তাঁর মতে, এটি কোনো হুমকি নয়, বরং ইরানের সক্ষমতার বাস্তব চিত্র।

আরাঘচির এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ভারতসহ বিশ্বের দেশগুলোর কাছে রুশ তেল কেনা নিয়ে আমেরিকার ‘দ্বিচারিতা’র যে অভিযোগ তিনি তুলেছেন, তা কূটনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।