রাজ্য সরকারি কর্মীদের লটারি! সপ্তম বেতন কমিশনে ৩ গুণ বাড়তে পারে স্যালারি, কবে থেকে কার্যকর

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের রণভেরি বাজার ঠিক আগমুহূর্তে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য ‘বিরাট’ উপহার নিয়ে এল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। দীর্ঘ টালবাহানা আর প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য অবশেষে রাজ্যে সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) গঠনের ঐতিহাসিক ঘোষণা করেছেন। এই ঘোষণার ফলে লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মীর বেতন কাঠামোয় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের কারিকুরি: ৩ গুণ বাড়তে পারে বেতন! সপ্তম বেতন কমিশনের সবথেকে আলোচিত বিষয় হলো ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে রাজ্য সরকার ২.৯১ থেকে ৩.১৫ পর্যন্ত ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ব্যবহার করতে পারে। যদি এই হিসেব মেলে, তবে মূল বেতন (Basic Pay) প্রায় তিন গুণ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
-
হিসেব নিকেশ: বর্তমানে কোনো কর্মীর মূল বেতন ১৮,০০০ টাকা হলে, ৩.১৫ গুণ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরে তা বেড়ে হতে পারে ৫৬,৭০০ টাকা। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়বে বাড়ি ভাড়া (HRA) এবং মহার্ঘ ভাতাও (DA)।
কবে ঢুকবে পকেটে বাড়তি টাকা? ষষ্ঠ বেতন কমিশনের মেয়াদ ২০২৫ সালের ৩১শে ডিসেম্বর শেষ হয়েছে। তাত্ত্বিকভাবে, ১লা জানুয়ারি ২০২৬ থেকেই সপ্তম বেতন কমিশনের কার্যকাল শুরু হওয়ার কথা। যদিও বাজেট পেশের পর কমিশন গঠনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি বা নোটিফিকেশন জারি করা এখন সময়ের অপেক্ষা। এরপর কমিশন তাদের সুপারিশ জমা দেবে। তবে আশার খবর হলো, এই নতুন বেতন কাঠামো ‘রেট্রোস্পেকটিভ এফেক্ট’ বা গত জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
ডিএ বৃদ্ধি ও নির্বাচনী জট: সপ্তম বেতন কমিশনের পাশাপাশি রাজ্যে আরও ৪ শতাংশ ডিএ বাড়ানোর ঘোষণা করা হয়েছে, যার ফলে বর্তমান ডিএ দাঁড়িয়েছে ২২ শতাংশে। তবে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে যাওয়ায় ‘আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি’ (MCC) এই প্রক্রিয়াকে কতটা বিলম্বিত করবে, তা নিয়ে কর্মীদের মনে কিছুটা সংশয় রয়ে গিয়েছে। তবে সরকারের এই ‘নির্বাচনী মাস্টারস্ট্রোক’ যে সরকারি কর্মীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।