নির্বাচনে আমূল বদল! এবার ইভিএমে প্রার্থীদের রঙিন ছবি, ৩৫ বছরে প্রথমবার মাত্র ২ দফায় ভোট বঙ্গে!

বাংলার ভোটের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী হতে চলেছে জনতা। রবিবার নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গসহ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছে। তবে এবারের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে কেবল ভোটের তারিখ নয়, বরং ইভিএমের খোল নলচে বদলে ফেলা। কমিশন জানিয়েছে, এবার আর সাদা-কালো ঝাপসা ছবি নয়, ইভিএম ব্যালটে প্রার্থীদের নাম ও ঝকঝকে রঙিন ছবি জ্বলজ্বল করবে।

৩৫ বছর পর ২ দফায় ভোট বঙ্গে: ২০২১ সালে যেখানে ৮ দফায় ভোট হয়েছিল, ২০২৬ সালে তা কমে দাঁড়াচ্ছে মাত্র ২ দফায়। ৩৫ বছর পর এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন মাত্র দুটি দফায় অনুষ্ঠিত হবে। ১৫২টি আসনের জন্য প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল এবং ১৪২টি আসনের জন্য দ্বিতীয় দফার ভোট ২৯ এপ্রিল। আগামী ৪ মে সব রাজ্যের ফলাফল একসঙ্গে ঘোষিত হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি আসলে ‘এক জাতি, এক নির্বাচন’-এর দিকেই কমিশনের একটি বড় পদক্ষেপ।

ইভিএমে রঙিন বিপ্লব: ভোটারদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে কমিশন নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। এবার ইভিএমের ব্যালট ইউনিটে প্রার্থীদের ছবি রঙিনভাবে মুদ্রিত হবে। প্রার্থীর মুখ ব্যালট পেপারের তিন-চতুর্থাংশ জায়গা দখল করবে, যাতে সাধারণ মানুষের প্রার্থীকে চিনতে কোনও ভুল না হয়। বিহারে প্রাথমিক পরীক্ষার সাফল্যের পর এবার বাংলাতেও এই রঙিন ব্যালট ব্যবহার করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, সিরিয়াল নম্বরও আগের চেয়ে বড় ও বোল্ড হরফে থাকবে।

নতুন লুকে নোভা (NOTA): সব প্রার্থীর নামের নিচেই থাকবে ‘নাকচ’ করার অধিকার বা NOTA। ইভিএম এবং পোস্টাল ব্যালট—উভয় ক্ষেত্রেই প্রার্থীদের নামের ফন্টের আকার ৩০ পয়েন্ট এবং বোল্ড অক্ষরে থাকবে, যাতে তা সহজে পাঠযোগ্য হয়। সিরিয়াল নম্বরের ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক ভারতীয় সংখ্যার রূপ ব্যবহার করা হবে।

কেন ২ দফার সিদ্ধান্ত? বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরে কম দফায় ভোটের দাবি জানিয়ে আসছিল। তাদের যুক্তি ছিল, দীর্ঘ সময় ধরে ভোট চললে এক এলাকার হিংসাত্মক উপাদান অন্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পায়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যাপক মোতায়েন নিশ্চিত করে দুই দফায় ভোট করলে ভোটারদের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে। কম সময়ে নির্বাচন নির্বাচনী গতি বজায় রাখতেও সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে।