দুই আমলাকে ছাড়বে না নবান্ন! রাষ্ট্রপতির প্রোটোকল ইস্যুতে কেন্দ্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে মমতার সরকার

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে না হতেই কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত এক চরম পর্যায়ে পৌঁছাল। শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সি সুধাকর এবং দার্জিলিংয়ের সদ্য প্রাক্তন জেলাশাসক মণীশ মিশ্রকে কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে পাঠানোর যে দাবি জানিয়েছিল অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, তাতে সরাসরি ‘না’ বলে দিল নবান্ন। শনিবারই কেন্দ্রের চিঠির উত্তরে নবান্ন জানিয়ে দিয়েছে, এই মুহূর্তে ওই দুই আধিকারিককে ছাড়া সম্ভব নয়।
কেন এই সংঘাত? ঘটনার সূত্রপাত গত ৭ মার্চ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর উত্তরবঙ্গ সফর ঘিরে। অভিযোগ ওঠে, রাষ্ট্রপতির প্রোটোকল এবং নিরাপত্তায় গুরুতর গাফিলতি ছিল। রাষ্ট্রপতি নিজেও এই নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন। এরপরই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নেয় এবং ব্লু-বুক (Blue Book) লঙ্ঘনের অভিযোগে মণীশ মিশ্র ও সি সুধাকরকে দিল্লিতে তলব করে। কেন্দ্র তিন দিনের মধ্যে তাঁদের ডেপুটেশনে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিল।
নবান্নের অবস্থান: রাজ্য সরকার গোড়া থেকেই প্রোটোকল ভাঙার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। নবান্নের দাবি, রাষ্ট্রপতির পুরো সফরসূচি এবং কারা তাঁকে অভ্যর্থনা জানাবেন, তা আগে থেকেই রাষ্ট্রপতি ভবন ও কেন্দ্রের কাছে অনুমোদিত ছিল। তড়িঘড়ি মণীশ মিশ্রকে জেলাশাসকের পদ থেকে সরিয়ে নবান্নে স্পেশাল সেক্রেটারি করা হলেও, তাঁকে দিল্লির হাতে ছাড়তে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের মুখে এই আইএএস (IAS) ও আইপিএস (IPS) আধিকারিকদের ক্যাডার কন্ট্রোলিং অথরিটি (Centre) এবং রাজ্য সরকারের (State) এই লড়াই প্রশাসনিক স্তরে এক বড় অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। ২০১৯-এর বিদ্যাসাগর মূর্তি কাণ্ড বা ২০২০-র জেপি নাড্ডার কনভয়ে হামলার পর যেভাবে আইপিএসদের ডেপুটেশন নিয়ে সংঘাত হয়েছিল, এই ঘটনা যেন সেই স্মৃতিকেই ফিরিয়ে আনল।