বিজেপি-আরএসএসের ইশারাতেই কি ভোট? ‘ডি-ভোটার’ ইস্যুতে কমিশনের ওপর ফেটে পড়লেন মহম্মদ সেলিম

২০২৬-এর বাংলা দখলের লড়াইয়ের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই ময়দানে নেমে পড়লেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। নির্বাচন কমিশন আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটের কথা ঘোষণা করলেও, খুশিতে নয়, বরং চরম ক্ষোভ উগরে দিলেন বাম নেতা। ভোটার তালিকায় ব্যাপক কারচুপি এবং কয়েক লক্ষ মানুষকে ‘ডি-ভোটার’ (সন্দেহভাজন ভোটার) করে রাখার প্রতিবাদে কার্যত যুদ্ধের ডাক দিয়েছেন তিনি।
রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে মহম্মদ সেলিম সরাসরি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন আরএসএস এবং বিজেপির ইচ্ছা পূরণ করতেই কাজ করছে। তিনি বলেন, “বিচারাধীন নামে একটি আলাদা শ্রেণি তৈরি করে বিপুল সংখ্যক মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার কোনও আইনি ভিত্তি নেই। প্রকৃত ভোটারদের নাম কেন বাদ দেওয়া হচ্ছে? বিডিও, এসডিও-রা আজ দলদাসে পরিণত হয়েছে।”
সেলিমের দাবি, মতুয়া, উদ্বাস্তু, আদিবাসী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের পরিকল্পিতভাবে ভোটদান থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে ভোটের ফলাফল আগে থেকেই প্রভাবিত করা যায়। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে হুঙ্কার দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব। গণতন্ত্র রক্ষার জন্য আমাদের আন্দোলন চলবে। আমরা আইনজীবী সংগঠনগুলোর সঙ্গে কথা বলেছি। মহকুমা আদালত থেকে শুরু করে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত লড়ব আমরা।”
বাংলার রাজনীতিতে এখন প্রশ্ন, বামেদের এই আইনি ও রাজপথের লড়াই ভোটের সমীকরণ কতটা বদলে দেবে? একদিকে যখন দুই দফায় ভোটের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে, তখন মহম্মদ সেলিমের এই ‘শেষ দেখে ছাড়ার’ বার্তা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল।