‘দেশে ফিরতে চাই’, অস্ট্রেলিয়া সাহায্যের হাত বাড়ালেও নাকচ, ইরানে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলেন তিন মহিলা ফুটবলার

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির আবহে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন ইরানের মহিলা ফুটবলাররা। এশিয়ান কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে ঘরবাড়ি ফেলে সেখানেই থেকে যাওয়ার (Humanitarian Visa) আবেদন করেছিলেন সাত সদস্য। কিন্তু রবিবারের এক নাটকীয় মোড়ে জানা গেল, তাঁদের মধ্যে তিন ফুটবলার অস্ট্রেলিয়া সরকারের সাহায্যের হাত ফিরিয়ে দিয়ে নিজের দেশেই ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়া ইরানি ফুটবলারের সংখ্যা সাত থেকে কমে চারে এসে ঠেকেছে।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, শনিবার রাতে ওই তিন ফুটবলার হঠাৎই সিদ্ধান্ত নেন যে তাঁরা দলের বাকি সদস্যদের সঙ্গেই ইরানে ফিরে যাবেন। বার্ক বলেন, “অস্ট্রেলীয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছিল যেন তাঁরা সবকটি বিকল্প ভালো করে খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেন। বারবার আলোচনার সুযোগ দেওয়া সত্ত্বেও তাঁরা নিজের দেশেই ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।” ইরানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এই তিনজনের মধ্যে দু’জন খেলোয়াড় এবং একজন সাপোর্ট স্টাফ রয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন গোল্ড কোস্টের হোটেল থেকে চুপিচুপি বেরিয়ে অস্ট্রেলীয় পুলিশের কাছে সুরক্ষা চান ইরানের পাঁচ ফুটবলার। তাঁদের মধ্যে ছিলেন অধিনায়ক জাহরা ঘানবারি ও মিডফিল্ডার ফাতেমা পাসানদিদে-র মতো তারকারা। মূলত ইরানে মহিলাদের ওপর বিধিনিষেধ ও অস্থির পরিস্থিতির ভয়েই তাঁরা দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে জাতীয় সংগীতে গলা না মিলিয়ে তাঁরা প্রতিবাদের ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন।
তবে ইরানের বিদেশমন্ত্রক এই ঘটনায় বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে সরব হয়। আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করে তেহরান দাবি করে, ফুটবলারদের প্রলুব্ধ করা হচ্ছে। অবশেষে তিন সদস্যের এই ‘ঘরওয়াপসি’ ইরানের জন্য বড় নৈতিক জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, বাকি চারজন এখনও অস্ট্রেলিয়ার নিরাপদ আশ্রয়েই রয়েছেন। অনিশ্চয়তা ও দেশপ্রেমের এই টানাপড়েনে এখন সরগরম ফুটবল বিশ্ব।