শুভেন্দুর মাস্টারস্ট্রোক! নন্দীগ্রাম না ভবানীপুর? ভোটের ঠিক আগেই বড় খোলসা বিরোধী দলনেতার!

বঙ্গ রাজনীতির হাই-ভোল্টেজ রবিবারে পারদ চড়ালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। একদিকে যখন দিল্লির নির্বাচন সদন থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার প্রস্তুতি চলছে, ঠিক তার আগেই নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র নিয়ে বড় জল্পনা উসকে দিলেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক। দীর্ঘ দিন ধরে ভবানীপুর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ার ইঙ্গিত দিলেও, আজ সুর বদলালেন শুভেন্দু। সাফ জানালেন, দল চাইলে তিনি লড়বেন, তবে তাঁর প্রথম পছন্দ ‘নন্দীগ্রাম’।

রবিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “বিজেপিতে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে কিছু হয় না। এটা পিসি-ভাইপোর পার্টি নয়। দল আমাকে না লড়ালেও ঠিক আছে, আবার যেখানে লড়তে বলবে সেখানেই লড়ব।” তবে নিজের ব্যক্তিগত ইচ্ছার কথা বলতে গিয়ে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। শুভেন্দুর কথায়, “আমাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, তবে আমি নন্দীগ্রামেই লড়তে চাই। নন্দীগ্রাম আমার ভদ্রাসন এবং আত্মিক সম্পদ। তবে নন্দীগ্রামকে রেখেই অন্য কিছু ভাবতে পারি।” এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে— তবে কি এবার নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর, দুই কেন্দ্র থেকেই প্রার্থী হতে চলেছেন শুভেন্দু?

শুভেন্দুর এই মন্তব্যকে ঘিরে স্বভাবতই আক্রমণাত্মক তৃণমূল কংগ্রেস। ঘাসফুল শিবিরের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী কড়া ভাষায় বিঁধে বলেন, “শুভেন্দু বুঝে গিয়েছেন এবার তাঁর হার নিশ্চিত। ২০২১-এ লোডশেডিং করে জিতেছিলেন, এবার আর সেই সুযোগ নেই। তাই ভয়ে এখন নন্দীগ্রামের অজুহাত দিচ্ছেন।” তিনি আরও যোগ করেন, “এতদিন বড় বড় কথা বলছিলেন যে ভবানীপুরে মমতাদিকে হারিয়ে দেবেন, এখন লেজ গুটিয়ে পালাচ্ছেন কেন? আসলে বিজেপির অন্দরেই তিনি এখন কোণঠাসা।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অমিত শাহ ও নীতিন নবীনের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকেও শুভেন্দুর আসন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভবানীপুরে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে শুভেন্দু আগে সরব হলেও, আজ হঠাৎ নন্দীগ্রামকে ‘সেফ প্যাসেজ’ হিসেবে বেছে নেওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে ফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এই স্নায়ুর লড়াই চলবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।